আত্রাই বার্তা
আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই’র মাহফিল আমীন আমীন ধ্বনীতে মুখরিত কীর্তণখোলা নদীর তীর
আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক (ফাল্গুনের) মাহফিল। গত ১ এপ্রিল' বুধবার বাদ জোহর মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই'র উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়ে আজ ০৪ এপ্রিল' শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক এ মিলনমেলা।সকাল (৪ এপ্রিল) সাড়ে ৮ টায় আখেরী পরিচালনা করেন পীর সাহেব চরমোনাই মোনাজাতে অংশ নেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লী তাদের আমীন আমীন ধনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীর। আখেরি মোনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, লেবানন সহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের অবসান ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত চরমোনাই মুরিদানদের মধ্য হতে মৃত্যুবরণকারী প্রায় দেড় হাজার মুজাহিদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাতের পুর্বে সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব বলেন চরমোনাই মাহফিল দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে নয়, বরং পথভোলা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ মাহফিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই।তিনি বলেন মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে অহরহ। অথচ একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। আল্লাহর ভয় যার অন্তরে নেই সে আলেম, মুফতি ও পীর হলেও আল্লার নিকট তার কোনো মূল্য নেই। তিনি বলেন নিজেকে নিজে ছোট মনে করতে হবে। আমিত্ব ভাব ও তাকাব্বুরি পরিত্যাগ করতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ পরিত্যাগ করতে হবে। ঘোড়ার মুখের ন্যায় রাগের মুখে লাগাম লাগাতে হবে। সকাল-সন্ধ্যা জিকিরের মাধ্যমে ক্বলব পরিশুদ্ধ করতে হবে। গিবতের মতো গুনাহ থেকে বাঁচিয়া থাকতে হবে। পরিবারের সবাইকে দীন শিক্ষা দিয়ে দীনের পাবন্দি করতে হবে। পরিবারে খাছ পর্দা জারি করতে হবে। সকল প্রকার নেশাজাত দ্রব্য হতে বাঁচিয়া থাকতে হবে। আল্লাহওয়ালাদের কিতাব পড়তে হবে। সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে নিয়মিত অংশ নিতে হবে। সহিহ শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে।সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের মোবারকবাদ জানান তিনি।আখেরি মোনাজাতের পুর্বে পীর সাহেব চরমোনাই বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তিনি মুরিদানদের সঠিক পথে পরিচালিত হবার বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাওবা করিয়ে গুনাহ থেকে বাঁচিয়া থাকার শপথ করান।এবছর মাহফিলে মূল ৭টি বয়ানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন দেশবরেণ্য বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরাম ও পীর মাশায়েখগণ মূল্যবান বয়ান পেশ করেন।উল্লেখ্য, মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে ২ জন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন, কাটালিয়া, মাধবদী, নরসিংদী নিবাসী এমদাদুল হাসান (৮৬) এবং ভুয়াপুর টাঙ্গাইল নিবাসী মো.তালহা (২২)। উভয়ের জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।চরমোনাই অস্থায়ী মাহফিল হাসপাতালে এবছর প্রায় ২ সহস্রাধিক মুসল্লীর চিকিৎসা দেয়া হয়। এবারের মাহফিলে ২ জন অমুসলিম পীরসাহেব চরমোনাই ও শায়খে চরমোনাইর হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।চরমোনাইর ঐতিহাসিক মাহফিল সফল করায় খুলনাবাসী কে ধন্যবাদ জানিয়েছেনইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি- মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান সহ সভাপতি - হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব ,মাওলানা আবু সাঈদ, সেক্রেটারি এস এম রেজাউল করিম সরদার,জয়েন্ট সেক্রেটারি আল: মোঃ শফিকুল ইসলাম,মাওঃ হারুনুর রশিদ , মোঃ মুহিব্বুল্লাহ হাফেজ মাওলানা মুফতি আশরাফুল ইসলাম ,মুফতি এনামুল হাসান সাঈদ , মাস্টার জাফর সাদেক,মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল ,মাওঃ আসাদুল্লাহ হামিদী,মাওঃ মাহবুবুল আলম ,মোঃ নুরুল হুদা সাজু ,মোঃ লিয়াকত আলী ,মোঃ ইউসুফ আলী আল: মোঃ আবু দউদ ,মোঃ আবু রায়হান মাওলানা মোঃ ওমর আলী,মাওঃ আব্দুল্ মালেক মুফতি ফয়জুল্লাহ,মাওঃ আহমাদ আলী, হাফেজ মোহাঃ কারিমুল ইসলাম হাফেজ জাহিদুল ইসলাম ,মোঃ ওলিয়ার রহমান আলী ,মোঃ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
হাম থেকে মুক্ত থাকতে জানতে হবে যেসব বিষয়
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।সরকার বলছে, টিকার সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে।ইপিআই সূত্র জানায়, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের দুই ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এই টিকার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। দেশের ৬৪টি জেলায় এই তিন মাসে এমআর টিকার মোট চাহিদা ছিল ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ ভায়াল (প্রতি ভায়ালে ৫ ডোজ টিকা থাকে)। কিন্তু সরবরাহ করা গেছে মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০ ভায়াল। ফলে মোট চাহিদার মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করা যায়নি। এই ঘাটতি মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ঘাটতির কারণে অনেক শিশুই নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা হামের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।একই সঙ্গে ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেওয়া অন্যান্য টিকার মধ্যে পেন্টাভ্যালেন্ট, বাইভ্যালেন্ট ওরাল পোলিও (পওপিভি), বিসিজি, ইন-অ্যাকটিভেটেড পোলিও (আইপিভি), নিউমোকক্কাল কনজুগেট (পিসিভি) এবং টিটেনাস-ডিপথেরিয়া (টিডি) টিকার এই সময়ে চাহিদা ছিল ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩ ভায়াল। সরবরাহ করা হয়েছে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৪০ ভায়ালের কিছু বেশি।ইপিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) থেকে হঠাৎ রাজস্ব খাতে যাওয়ায় টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ দেশের স্বাস্থ্য খাতের ৩০টির বেশি উদ্যোগ আগে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার (ওপি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ ওপি ছিল ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি)’, যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। এরপর নতুন কোনো ওপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার রাজস্ব খাতের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা নেয়। তবে প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকাসহ স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে বিলম্ব দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেনা টিকা দিয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো হয়। কিন্তু নতুন অর্থ ছাড় না হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছেস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাবঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বাড়ায়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ার প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ ওপি বন্ধ করা ঠিক হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন। জুন-জুলাইয়ে নতুন বাজেট আসার পরও কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিন মাস লেগে যায়। তাই পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের সংকট পুনরায় দেখা দেবে। র্যাভিস টিকার ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে।’চলতি বছর গত সোমবার পর্যন্ত ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৭৫ গুণ বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে হামে আক্রান্ত শিশু ছিল মাত্র ৯ জন। ২০২৪ সালে ছিল ৬৪ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮টি শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হাম রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের কম। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তিহয়েছে ১৬ শিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।রাজশাহী মেডিকেলে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, মার্চে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮ শিশু ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ১৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তিন শিশু চিকিৎসাধীন।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, জানুয়ারির শেষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে ২৯৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। তাদের ৫টি শিশু মারা গেছে। বর্তমানে হাম আইসোলেশন কর্নারে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন।সিলেটের হাসপাতালে হাম উপসর্গে ৩০ শিশু ভর্তি রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।
টিকাদান কর্মসূচি: হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।সরকার বলছে, টিকার সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে।ইপিআই সূত্র জানায়, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের দুই ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এই টিকার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। দেশের ৬৪টি জেলায় এই তিন মাসে এমআর টিকার মোট চাহিদা ছিল ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ ভায়াল (প্রতি ভায়ালে ৫ ডোজ টিকা থাকে)। কিন্তু সরবরাহ করা গেছে মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০ ভায়াল। ফলে মোট চাহিদার মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করা যায়নি। এই ঘাটতি মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ঘাটতির কারণে অনেক শিশুই নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা হামের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।একই সঙ্গে ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেওয়া অন্যান্য টিকার মধ্যে পেন্টাভ্যালেন্ট, বাইভ্যালেন্ট ওরাল পোলিও (পওপিভি), বিসিজি, ইন-অ্যাকটিভেটেড পোলিও (আইপিভি), নিউমোকক্কাল কনজুগেট (পিসিভি) এবং টিটেনাস-ডিপথেরিয়া (টিডি) টিকার এই সময়ে চাহিদা ছিল ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩ ভায়াল। সরবরাহ করা হয়েছে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৪০ ভায়ালের কিছু বেশি।ইপিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) থেকে হঠাৎ রাজস্ব খাতে যাওয়ায় টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ দেশের স্বাস্থ্য খাতের ৩০টির বেশি উদ্যোগ আগে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার (ওপি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ ওপি ছিল ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি)’, যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। এরপর নতুন কোনো ওপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার রাজস্ব খাতের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা নেয়। তবে প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকাসহ স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে বিলম্ব দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেনা টিকা দিয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো হয়। কিন্তু নতুন অর্থ ছাড় না হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছেস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাবঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বাড়ায়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ার প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ ওপি বন্ধ করা ঠিক হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন। জুন-জুলাইয়ে নতুন বাজেট আসার পরও কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিন মাস লেগে যায়। তাই পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের সংকট পুনরায় দেখা দেবে। র্যাভিস টিকার ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে।’চলতি বছর গত সোমবার পর্যন্ত ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৭৫ গুণ বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে হামে আক্রান্ত শিশু ছিল মাত্র ৯ জন। ২০২৪ সালে ছিল ৬৪ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮টি শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হাম রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের কম। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তিহয়েছে ১৬ শিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।রাজশাহী মেডিকেলে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, মার্চে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮ শিশু ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ১৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তিন শিশু চিকিৎসাধীন।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, জানুয়ারির শেষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে ২৯৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। তাদের ৫টি শিশু মারা গেছে। বর্তমানে হাম আইসোলেশন কর্নারে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন।সিলেটের হাসপাতালে হাম উপসর্গে ৩০ শিশু ভর্তি রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।
টিকাদান কর্মসূচি: হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।সরকার বলছে, টিকার সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে।ইপিআই সূত্র জানায়, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের দুই ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এই টিকার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে। দেশের ৬৪টি জেলায় এই তিন মাসে এমআর টিকার মোট চাহিদা ছিল ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ ভায়াল (প্রতি ভায়ালে ৫ ডোজ টিকা থাকে)। কিন্তু সরবরাহ করা গেছে মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০ ভায়াল। ফলে মোট চাহিদার মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ৭২ দশমিক ৫৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করা যায়নি। এই ঘাটতি মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ঘাটতির কারণে অনেক শিশুই নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা হামের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।একই সঙ্গে ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেওয়া অন্যান্য টিকার মধ্যে পেন্টাভ্যালেন্ট, বাইভ্যালেন্ট ওরাল পোলিও (পওপিভি), বিসিজি, ইন-অ্যাকটিভেটেড পোলিও (আইপিভি), নিউমোকক্কাল কনজুগেট (পিসিভি) এবং টিটেনাস-ডিপথেরিয়া (টিডি) টিকার এই সময়ে চাহিদা ছিল ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩ ভায়াল। সরবরাহ করা হয়েছে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৪০ ভায়ালের কিছু বেশি।ইপিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) থেকে হঠাৎ রাজস্ব খাতে যাওয়ায় টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ দেশের স্বাস্থ্য খাতের ৩০টির বেশি উদ্যোগ আগে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার (ওপি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ ওপি ছিল ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি)’, যা ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। এরপর নতুন কোনো ওপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে সরকার রাজস্ব খাতের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা নেয়। তবে প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকাসহ স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে বিলম্ব দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কেনা টিকা দিয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো হয়। কিন্তু নতুন অর্থ ছাড় না হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছেস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাবঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বাড়ায়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ার প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ ওপি বন্ধ করা ঠিক হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন। জুন-জুলাইয়ে নতুন বাজেট আসার পরও কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিন মাস লেগে যায়। তাই পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের সংকট পুনরায় দেখা দেবে। র্যাভিস টিকার ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে।’চলতি বছর গত সোমবার পর্যন্ত ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৭৫ গুণ বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে হামে আক্রান্ত শিশু ছিল মাত্র ৯ জন। ২০২৪ সালে ছিল ৬৪ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮টি শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হাম রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের কম। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তিহয়েছে ১৬ শিশু। সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।রাজশাহী মেডিকেলে সোমবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, মার্চে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮ শিশু ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ১৪ শিশুর হাম নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তিন শিশু চিকিৎসাধীন।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, জানুয়ারির শেষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে ২৯৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। তাদের ৫টি শিশু মারা গেছে। বর্তমানে হাম আইসোলেশন কর্নারে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন।সিলেটের হাসপাতালে হাম উপসর্গে ৩০ শিশু ভর্তি রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৪১৯ কোটি টাকার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আগেই প্রি-ফাইন্যান্সিংয়ের ইউনিসেফের মাধ্যমে এসেছে। অবশিষ্ট অর্থছাড় হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকা পাওয়া যাবে। ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়নের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের টিকা দিতে অন্তত এক থেকে দুই মাস লাগে। আগে সরাসরি কেনা যেত। এখন প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগে। তবে মন্ত্রিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ায় জটিলতা কমবে।
সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মাওলানা আবদুল খালেক জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল
অফিস সময়ে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদ,উড়ছে জাতীয় পতাকা—নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী
মানবিকতায় এগিয়ে ‘গো ফ্যাভলো ফাউন্ডেশন'
নীলফামারী জেলার ৪ জন এমপির সংবর্ধনা ঈদ উৎসব ও মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
খানসামায় রক্তরেখা ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে ২৩৯ কপি কুরআন মাজিদ বিতরণ কর্মসূচী ২০২৫ অনুষ্ঠিত ।
সৈয়দপুরে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঈদের আনন্দের ভিড়ে এক পরিবারের নীরব কান্না: রাতের আঁধারে চুরি গেল জীবিকার একমাত্র ভ্যান
কদমতলীতে যুবদল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও পিকেটিং
ঈদযাত্রায় কমলাপুরে বাড়ছে চাপ, প্রতিদিন ৬৫ হাজার যাত্রী
খানসামা উপজেলায় আরাফারত রহমান কোকো ক্রীয়া সংসদ এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন
কালীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট: ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চরমোনাই’র মাহফিল আমীন আমীন ধ্বনীতে মুখরিত কীর্তণখোলা নদীর তীর
চরমোনাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ আদায়, আগামীকাল শনিবার আখেরী মোনাজাত
ডিমলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩০ জন কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ
কালীগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মে জরিমানা
অতিরিক্ত খিদে কমাতে খান প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
হাম থেকে মুক্ত থাকতে জানতে হবে যেসব বিষয়
টিকাদান কর্মসূচি: হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ
টিকাদান কর্মসূচি: হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ
জরুরি ভিত্তিতে ৫ এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণ সফল
দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে ডানা মেলে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে কেপ ক্যাআর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ চার মহাকাশচারী—মিশন কমান্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।উৎক্ষেপণের আগে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে এই চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছি।’আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন। মহাকাশযানটি প্রথমবারের মতো মানুষ বহন করায় এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।নাভেরালে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার উৎসুক মানুষ।এবারের মিশনের কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে এবার তারা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। ডকিং সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, আর্টেমিস-২ উৎক্ষেপণ সফলসফলভাবে আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন। ছবি : রয়টার্সদীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে তাদের ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি চারজন নভোচারীকে নিয়ে মহাকাশে ডানা মেলে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে কেপ ক্যানাভেরালে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার উৎসুক মানুষআর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ চার মহাকাশচারী—মিশন কমান্ডার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।উৎক্ষেপণের আগে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে এই চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছি।’আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন। মহাকাশযানটি প্রথমবারের মতো মানুষ বহন করায় এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।এবারের মিশনের কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে এবার তারা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না। ডকিং সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাই করা হবে। প্রায় ১০ দিনের এই মিশন শেষে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।মিশন ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের বিদায় জানানোর সময় বলেন, ‘রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা ও জেরেমি—আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্ন। শুভকামনা আপনাদের।’এই মিশনের সফল সমাপ্তি মূলত পরবর্তী মিশন ‘আর্টেমিস-৩’-এর পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন দেখছে।যানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাই করা হবে। প্রায় ১০ দিনের এই মিশন শেষে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।