ঢাকা   বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
আত্রাই বার্তা

তীব্র অ্যালার্জিতে স্টেরয়েড নেওয়া যাবে? বাঁচার উপায়ই বা কী



তীব্র অ্যালার্জিতে স্টেরয়েড নেওয়া যাবে? বাঁচার উপায়ই বা কী

রাতে মহল্লায় যেমন পাহারাদার  টহল দিতে থাকে, আমাদের শরীরেও তেমন অনেকগুলো  পাহারাদার দিনে-রাতে টহল দেয় ক্ষতিকর জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে। আমরা যে প্রতিদিন অপরিষ্কার কত কিছু খাই, বাতাসে ভেসে বেড়ানো কত জীবাণু শরীরে ঢোকে, তাও আমরা অসুস্থ হই না। এই পাহারাদারদেরই কল্যাণেই। ক্ষতিকর জিনিসগুলোকে ধরাও পাকরাও করে একদম নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আমরা কিছু টেরও পাই না। এটাই হলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তবে এটা সবসময় নিখুঁতভাবে কাজ  করে না, মাঝে মাঝে ভুলও করে বসে। তখনই দেখা দেয় অ্যালার্জি। 

অ্যালার্জি হয়ে গেছে, এখন আপনি কী করবেন, উপশমের উপায় কি? অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের প্রধান ওষুধ হল অ্যান্টিহিস্টামিন। শুরুতে যে বলেছিলাম অ্যালার্জির অস্বস্তিগুলো তৈরি হয় কারণ আপনার রোগ প্রতিরোধ  ব্যবস্থা মারামারি করছে। সেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার  একটা অস্ত্র হল হিস্টামিন - যা এতো গোলমাল পাকায়। এই হিস্টামিনকে রুখতে  ওষুধ হল “অ্যান্টি”হিস্টামিন। এ জাতীয় অনেকগুলো ওষুধ আছে। অ্যালার্জির যাবতীয় অস্বস্তিগুলো  কমাতে সাহায্য করে। আবার যখন আগে থেকে জানা  যে অ্যালার্জি হতে পারে, তখন আগে ভাগে খেয়ে নিলে  অ্যালার্জি হওয়া রুখে দিতে পারে। এটা করবেন আপনার  চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। আর কী কী চিকিৎসা আছে? চুলকানি কমানোর জন্য জায়গাটাতে একটু ঠাণ্ডা সেক দিতে পারেন।

একটা তোয়ালেতে বরফ পেঁচিয়ে সেক দিতে পারেন। চুলকানি কমাতে কালামাইন লোশন, 1% মেন্থল ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজিং লোশনও  ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে সেটার  কিছু স্প্রে আর ওষুধ আছে। মেডিকেলের ভাষায়  বলে ডিকনজেস্টেনট। চোখ চুলকানোর জন্য  চোখের ড্রপ আছে। এলার্জি সমস্যা সমাধানে আরেকটা  গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল মানসিক চাপ। মানসিক চাপে থাকলে অ্যালার্জি  আরও খারাপ হতে পারে। তাই যারা অ্যালার্জির সমস্যায়  অনেক কষ্ট পাচ্ছেন, দেখেন মানসিক প্রশান্তি  আনা যায় কীভাবে। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, শ্বাসের  ব্যায়ামের মাধ্যমে চেষ্টা করতে পারেন।আপনার খুব তীব্র অ্যালার্জি  হলে অল্প কিছুদিনের জন্য স্টেরয়েড নামের ওষুধ খেতে হতে পারে। আমি ইউটিউবে বেশ  কয়েকটা ভিডিও দেখেছি যেখানে নাম ডোজসহ গণহারে অ্যালার্জির জন্য স্টেরয়েড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া আছে। এটা ভুলেও করতে যাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই এই ওষুধ খাবেন না। এটা খুবই শক্তিশালী ওষুধ। আপনার রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতাকে দমিয়ে দেয়। ফলে অ্যালার্জিতে হয়তো আরাম পাবেন, কিন্তু অন্য ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে তো আর লড়াই করতে পারবে না, তখন সেগুলো এসে আপনার শরীরে বাসা বাধতে পারে। করোনার সময় শুনেছেন না ব্ল্যাক  ফাঙ্গাসে অনেক মানুষ অন্ধ হয়ে গেছে। যথেচ্ছ স্টেরয়েড খাওয়ার এর জন্য দায়ী বলে ধারণা করা হয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সুস্থ মানুষকে  কিছু করতে পারে না, কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল,  তাদের ওপরে একেবারে জেঁকে বসে। এলার্জির চিকিৎসার পরের ধাপের  চিকিৎসা হচ্ছে ইমিউনোথেরাপি। অনেকে এটাকে  অ্যালার্জি ভ্যাক্সিন বলে। যেই জিনিসে আপনার অ্যালার্জি, সেটা অল্প অল্প করে ইনজেকশন দিতে  থাকতে হয় কয়েক বছর ধরে। মোট কথা, অ্যালার্জির কয়েক  ধাপের কার্যকরী চিকিৎসা আছে। একদম সেরে না গেলেও  অনেক নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। প্রয়োজনে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।

শেষ করার আগে প্রাণঘাতী  অ্যালার্জির লক্ষণগুলো বলে দেই এগুলো খুব দ্রুত শুরু হয় আর  তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যেতে থাকে: শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেয়ার  সময় শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া বুক ধড়ফড় মাথা ঘুরানো মনে হয় অজ্ঞান হয়ে পরছে বা অজ্ঞান হয়ে পরা গায়ে ঘাম আসা কনফিউশন মুখ, চোখ, ঠোঁট,  জিহ্বা ফুলে যাওয়া সাথে গায়ে চাকা চাকা, চুলকানি, বমিভাব,  বমি, পেট ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে। এমন হলে রোগীকে যত দ্রুত  সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যান। রোগী ভালো অনুভব করলেও  হাসপাতালে নিবেন। আগেই বলেছি এটা  প্রাণঘাতি হতে পারে। কিন্তু সময়মত একটা ইঞ্জেকশন  দিলেই জীবন বেঁচে যেতে পারে।

আত্রাই বার্তা

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


তীব্র অ্যালার্জিতে স্টেরয়েড নেওয়া যাবে? বাঁচার উপায়ই বা কী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাতে মহল্লায় যেমন পাহারাদার  টহল দিতে থাকে, আমাদের শরীরেও তেমন অনেকগুলো  পাহারাদার দিনে-রাতে টহল দেয় ক্ষতিকর জীবাণু থেকে সুরক্ষা দিতে। আমরা যে প্রতিদিন অপরিষ্কার কত কিছু খাই, বাতাসে ভেসে বেড়ানো কত জীবাণু শরীরে ঢোকে, তাও আমরা অসুস্থ হই না। এই পাহারাদারদেরই কল্যাণেই। ক্ষতিকর জিনিসগুলোকে ধরাও পাকরাও করে একদম নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আমরা কিছু টেরও পাই না। এটাই হলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তবে এটা সবসময় নিখুঁতভাবে কাজ  করে না, মাঝে মাঝে ভুলও করে বসে। তখনই দেখা দেয় অ্যালার্জি। 

অ্যালার্জি হয়ে গেছে, এখন আপনি কী করবেন, উপশমের উপায় কি? অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের প্রধান ওষুধ হল অ্যান্টিহিস্টামিন। শুরুতে যে বলেছিলাম অ্যালার্জির অস্বস্তিগুলো তৈরি হয় কারণ আপনার রোগ প্রতিরোধ  ব্যবস্থা মারামারি করছে। সেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার  একটা অস্ত্র হল হিস্টামিন - যা এতো গোলমাল পাকায়। এই হিস্টামিনকে রুখতে  ওষুধ হল “অ্যান্টি”হিস্টামিন। এ জাতীয় অনেকগুলো ওষুধ আছে। অ্যালার্জির যাবতীয় অস্বস্তিগুলো  কমাতে সাহায্য করে। আবার যখন আগে থেকে জানা  যে অ্যালার্জি হতে পারে, তখন আগে ভাগে খেয়ে নিলে  অ্যালার্জি হওয়া রুখে দিতে পারে। এটা করবেন আপনার  চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। আর কী কী চিকিৎসা আছে? চুলকানি কমানোর জন্য জায়গাটাতে একটু ঠাণ্ডা সেক দিতে পারেন।

একটা তোয়ালেতে বরফ পেঁচিয়ে সেক দিতে পারেন। চুলকানি কমাতে কালামাইন লোশন, 1% মেন্থল ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজিং লোশনও  ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে সেটার  কিছু স্প্রে আর ওষুধ আছে। মেডিকেলের ভাষায়  বলে ডিকনজেস্টেনট। চোখ চুলকানোর জন্য  চোখের ড্রপ আছে। এলার্জি সমস্যা সমাধানে আরেকটা  গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল মানসিক চাপ। মানসিক চাপে থাকলে অ্যালার্জি  আরও খারাপ হতে পারে। তাই যারা অ্যালার্জির সমস্যায়  অনেক কষ্ট পাচ্ছেন, দেখেন মানসিক প্রশান্তি  আনা যায় কীভাবে। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, শ্বাসের  ব্যায়ামের মাধ্যমে চেষ্টা করতে পারেন।আপনার খুব তীব্র অ্যালার্জি  হলে অল্প কিছুদিনের জন্য স্টেরয়েড নামের ওষুধ খেতে হতে পারে। আমি ইউটিউবে বেশ  কয়েকটা ভিডিও দেখেছি যেখানে নাম ডোজসহ গণহারে অ্যালার্জির জন্য স্টেরয়েড খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া আছে। এটা ভুলেও করতে যাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই এই ওষুধ খাবেন না। এটা খুবই শক্তিশালী ওষুধ। আপনার রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতাকে দমিয়ে দেয়। ফলে অ্যালার্জিতে হয়তো আরাম পাবেন, কিন্তু অন্য ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে তো আর লড়াই করতে পারবে না, তখন সেগুলো এসে আপনার শরীরে বাসা বাধতে পারে। করোনার সময় শুনেছেন না ব্ল্যাক  ফাঙ্গাসে অনেক মানুষ অন্ধ হয়ে গেছে। যথেচ্ছ স্টেরয়েড খাওয়ার এর জন্য দায়ী বলে ধারণা করা হয়। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সুস্থ মানুষকে  কিছু করতে পারে না, কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল,  তাদের ওপরে একেবারে জেঁকে বসে। এলার্জির চিকিৎসার পরের ধাপের  চিকিৎসা হচ্ছে ইমিউনোথেরাপি। অনেকে এটাকে  অ্যালার্জি ভ্যাক্সিন বলে। যেই জিনিসে আপনার অ্যালার্জি, সেটা অল্প অল্প করে ইনজেকশন দিতে  থাকতে হয় কয়েক বছর ধরে। মোট কথা, অ্যালার্জির কয়েক  ধাপের কার্যকরী চিকিৎসা আছে। একদম সেরে না গেলেও  অনেক নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। প্রয়োজনে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন।

শেষ করার আগে প্রাণঘাতী  অ্যালার্জির লক্ষণগুলো বলে দেই এগুলো খুব দ্রুত শুরু হয় আর  তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যেতে থাকে: শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেয়ার  সময় শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া বুক ধড়ফড় মাথা ঘুরানো মনে হয় অজ্ঞান হয়ে পরছে বা অজ্ঞান হয়ে পরা গায়ে ঘাম আসা কনফিউশন মুখ, চোখ, ঠোঁট,  জিহ্বা ফুলে যাওয়া সাথে গায়ে চাকা চাকা, চুলকানি, বমিভাব,  বমি, পেট ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে। এমন হলে রোগীকে যত দ্রুত  সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যান। রোগী ভালো অনুভব করলেও  হাসপাতালে নিবেন। আগেই বলেছি এটা  প্রাণঘাতি হতে পারে। কিন্তু সময়মত একটা ইঞ্জেকশন  দিলেই জীবন বেঁচে যেতে পারে।


আত্রাই বার্তা

সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত