এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ২২৩ টাকা, নতুন মূল্য ২ হাজার ৬০ টাকা
দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে
ঘাটতি থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যেই ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ হাজার ৬০ টাকা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। ঘোষিত নতুন দাম রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। বাজারে গত দেড় মাস ধরে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলপিজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। বাকি অংশ শিল্প ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। এ খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যারা এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ করে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তবে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে একদিকে বাড়তি দাম, অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বিইআরসির নতুন মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এমনকি বাড়তি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।