ঢাকা   শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আত্রাই বার্তা

এইচএসসির ফলাফলে খানসামায় হতাশার চিত্র, ১১ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৩.২২ শতাংশ



এইচএসসির ফলাফলে খানসামায় হতাশার চিত্র, ১১ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৩.২২ শতাংশ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ৮৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৮৭ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারের দিক থেকে জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন।

পাকেরহাট সরকারি কলেজ থেকে ১৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭০ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

খানসামা মহিলা কলেজ থেকে ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রদত্ত পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যা অনুযায়ী পাসের হার ৪০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

শাপলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

কাচিনিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছেন। পাসের হার ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ।

খানসামা ডিগ্রি কলেজ থেকে ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

কাচিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ছাতিয়ানগড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।

বাংলা ভাষা কলেজ থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র সাতজন পাস করেছেন। পাসের হার ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, আলোকডিহি আইডিয়াল কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে মোট তিনজন এবং কাচিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে একজনসহ সর্বমোট চারজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফল উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত পাঠচর্চা এবং শিক্ষার সার্বিক মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসা উদ্বেগের বিষয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ফলাফলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আত্রাই বার্তা

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


এইচএসসির ফলাফলে খানসামায় হতাশার চিত্র, ১১ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৩.২২ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ৮৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৮৭ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী।


প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারের দিক থেকে জমির উদ্দিন শাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন।


পাকেরহাট সরকারি কলেজ থেকে ১৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭০ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।


খানসামা মহিলা কলেজ থেকে ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রদত্ত পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যা অনুযায়ী পাসের হার ৪০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।


শাপলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।


কাচিনিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।


হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছেন। পাসের হার ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ।


খানসামা ডিগ্রি কলেজ থেকে ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।


কাচিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।


ছাতিয়ানগড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।


বাংলা ভাষা কলেজ থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র সাতজন পাস করেছেন। পাসের হার ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।


অন্যদিকে, আলোকডিহি আইডিয়াল কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।


সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে মোট তিনজন এবং কাচিনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে একজনসহ সর্বমোট চারজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।


শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফল উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত পাঠচর্চা এবং শিক্ষার সার্বিক মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসা উদ্বেগের বিষয়।


সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ফলাফলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আত্রাই বার্তা

সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত