ডিমলায় শতবর্ষী গাছবাড়ি খেলার মাঠ ৬ ঘন্টায় দখল মুক্ত হল
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি এলাকার প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গাছবাড়ি’ খেলার মাঠ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ জন মানুষ হঠাৎ মাঠে প্রবেশ করে কয়েক শতাধিক গাছের চারা রোপণ করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাছ রোপনের বাধা দিলে, গাছ রোপন কারীরা তাকে হুমকি প্রদর্শন করেন। প্রধান শিক্ষক নিরুপায় হয়ে লিখিত অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের বরাবর দাখিল করলে প্রশাসনের উদ্যোগে ৬ ঘণ্টার মধ্যে মাঠটি দখলমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকাশকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘গাছবাড়ি’ মাঠটির ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো। মাঠসহ সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ প্রায় ৪ একর ৩৪ শতক। দীর্ঘদিন ধরে জমিটির একদিকে মসজিদ আছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয়, ক্লিনিক ও বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অবশিষ্ট অংশটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে আকাশকুড়ি মৌজার ৪ একর ৩৪ শতক জমি মহেষ বাবু ভারতীয় বাসিন্দা আকবর বাদশার সঙ্গে বিনিময় করেন। ১৯৫৬ সালে মহেষ বাবু ভারতে চলে যাওয়ার পর বিনিময় সূত্রে জমিটির মালিক হন আকবর বাদশা। পরে জমিটি তাঁর নামে এসএ রেকর্ডভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে আকবর বাদশা ওই জমিতে আকাশকুড়ি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বিদ্যালয় সূত্রের দাবি, ১৯৭১ সালে দুটি দলিলের মাধ্যমে ৩ একর এবং ১ একর ৩৪ শতক—মোট ৪ একর ৩৪ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে লিখে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই জমির অবশিষ্ট অংশ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে পরবর্তী সময়ে বিএস বা হাল রেকর্ডে বিদ্যালয়ের ১ একর ৫৫ শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ড সংশোধনের জন্য প্রধান শিক্ষক কামিনী কুমার রায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মাঠে গাছের চারা রোপণ করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
৬ ঘণ্টায় মাঠ দখলমুক্ত
স্থানীয়দের অভিযোগ, নুর আলম, মনিরুজ্জামান, তহিদুল ইসলাম ভুট্টু ও মহুবর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় মাঠে আনুমানিক পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয় বলে তাঁদের দাবি।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামিনী কুমার রায় বিষয়টি ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাঠে রোপণ করা গাছের চারাগুলো সরিয়ে দেয়। এতে ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যেই মাঠটি দখলমুক্ত হয়।
এলাকাবাসীরা ও
স্থানীয় বাসিন্দা “ সংবাদ কর্মীদের বলেন আমাদের দাদার আমল থেকে এই মাঠ দেখে আসছি। ছোটবেলা থেকেই এখানে খেলাধুলা করেছি। এখন আমাদের ছেলে-নাতিরাও এই মাঠে খেলে। কিছু অসাধু মানুষের কারণে মাঠটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় মাঠটি দখলমুক্ত হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামিনী কুমার রায় বলেন মাঠে গাছ লাগানোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিলে । পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, “আকাশকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠেে অবৈধভাবে দখল করে গাছ লাগানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে মাঠে লাগানো গাছের চারাগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।