পাকেরহাটে ‘অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক’ পরিচয়ে রোগী দেখা, রফিকুলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে ‘অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক’ পরিচয়ে চেম্বার খুলে রোগী দেখার অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘সেফ ওরাল ডেন্টাল কেয়ার’ নামের একটি চেম্বারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকেরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে ওই চেম্বারে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ‘ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল টেকনোলজি’ সনদ দেখান। তবে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন কিংবা বিডিএস (BDS) ডিগ্রির সনদ দেখাতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ সময় প্রেসক্রিপশনে নিজেকে ‘অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক’ হিসেবে উল্লেখ করে রোগী দেখার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান চলাকালে রফিকুল ইসলামের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ টেংলাহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি, বাগবাটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং আরআইএম ডিগ্রি কলেজ, হাটহাটা থেকে বিএ পাস করেছেন। তবে মেডিকেল-সংক্রান্ত ডিপ্লোমা কখন সম্পন্ন করেছেন—এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে একটি সনদ প্রদর্শন করেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা ঠাকুরগাঁও জেলায় বলে জানা গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ বলে জানান।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার বলেন, **“রফিকুল ইসলাম টেকনিশিয়ান ডেন্টিস্ট পরিচয় বহন করে বেআইনিভাবে চেম্বার খুলে রোগী দেখছিলেন এবং প্রেসক্রিপশনে ‘অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক’ লিখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অপরাধে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”**
তিনি আরও জানান, **“জরিমানা করার পরও যদি ওই চেম্বারে একইভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখা হয়, তাহলে পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”**
স্থানীয়দের দাবি, ডেন্টাল টেকনোলজির সনদধারীদের চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন দেওয়া কিংবা অস্ত্রোপচারমূলক চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অনুমোদনহীন চিকিৎসা কার্যক্রম যেন পুনরায় চালু না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।