সংস্কারের অভাবে বেহাল খানসামা-নীলফামারী সড়ক, ঝুঁকিতে যাত্রীরা
দিনের পর দিন সংস্কারহীন থাকায় দিনাজপুরের খানসামা থেকে মনাগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ হয়ে নীলফামারী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে বিটুমিন ও খোয়া। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে কাদা ও পানি। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা; চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সাধারণ যাত্রীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খানসামা রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোড় থেকে আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে বাসুলী পাকারমাথা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতায় সড়কের কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এতে আহত হচ্ছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তে পানি জমে যাওয়ায় দূর থেকে সড়কের গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলায় সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারে গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে সড়কটি।
তাদের দাবি, আর কোনো সাময়িক মেরামত নয়; দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় সড়কটির পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে। তাই জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।