ঢাকা   রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
আত্রাই বার্তা

আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি, অমাবস্যার রাতে জ্বলবে প্রদীপ



আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি, অমাবস্যার রাতে জ্বলবে প্রদীপ
সংগৃহীত ছবি

আজ রোববার (৮ নভেম্বর) হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবী শ্যামার আরাধনা এবং প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হবে উৎসব দুটি।

উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজার আয়োজনের পাশাপাশি মন্দির ও আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবে অংশ নেবেন ভক্তরা।

পঞ্জিকা অনুসারে, রোববার দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে শেষ হবে। অমাবস্যার রাতেই সাধারণত শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। কালীপূজা নামেও পরিচিত এই পূজায় দেবী শ্যামার আরাধনা করেন ভক্তরা। একই তিথিতে অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপূজার আয়োজনও করা হয়।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী শ্যামা শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় তাঁর পূজা করা হয়। অন্যদিকে দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব। অন্ধকার দূর করে আলোর মাধ্যমে শুভ ও মঙ্গলের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।

বাঙালি হিন্দুদের কাছে উৎসবটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দিওয়ালি নামটির প্রচলন বেশি। ধর্মীয় পরিভাষায় এটি ‘দীপান্বিতা কালীপূজা’ হিসেবেও পরিচিত। বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ তিথিতে কালীপূজা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।

শ্যামাপূজা ও দীপাবলির অন্যতম ঐতিহ্য হলো প্রদীপ প্রজ্বালন। সন্ধ্যায় বাড়িঘরের পাশাপাশি শ্মশানেও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রয়াত বাবা-মা ও স্বজনদের স্মরণ করেন অনেকে। এর মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার তাতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার, রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির ও পোস্তগোলা মহাশ্মশানেও চলছে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি।

ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও প্রদীপের আলোয় আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হবে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। উৎসবটি ভক্তদের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্ধকারের বিপরীতে আলো, অশুভের বিপরীতে শুভ এবং কল্যাণের প্রত্যয়ের প্রতীক।

আত্রাই বার্তা

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


আজ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি, অমাবস্যার রাতে জ্বলবে প্রদীপ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আজ রোববার (৮ নভেম্বর) হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবী শ্যামার আরাধনা এবং প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হবে উৎসব দুটি।

উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজার আয়োজনের পাশাপাশি মন্দির ও আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবে অংশ নেবেন ভক্তরা।

পঞ্জিকা অনুসারে, রোববার দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে সোমবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে শেষ হবে। অমাবস্যার রাতেই সাধারণত শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। কালীপূজা নামেও পরিচিত এই পূজায় দেবী শ্যামার আরাধনা করেন ভক্তরা। একই তিথিতে অনেক পরিবারে লক্ষ্মীপূজার আয়োজনও করা হয়।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী শ্যামা শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় তাঁর পূজা করা হয়। অন্যদিকে দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব। অন্ধকার দূর করে আলোর মাধ্যমে শুভ ও মঙ্গলের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।

বাঙালি হিন্দুদের কাছে উৎসবটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দিওয়ালি নামটির প্রচলন বেশি। ধর্মীয় পরিভাষায় এটি ‘দীপান্বিতা কালীপূজা’ হিসেবেও পরিচিত। বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ তিথিতে কালীপূজা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।

শ্যামাপূজা ও দীপাবলির অন্যতম ঐতিহ্য হলো প্রদীপ প্রজ্বালন। সন্ধ্যায় বাড়িঘরের পাশাপাশি শ্মশানেও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রয়াত বাবা-মা ও স্বজনদের স্মরণ করেন অনেকে। এর মধ্য দিয়ে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়।

এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার তাতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার, রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির ও পোস্তগোলা মহাশ্মশানেও চলছে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি।

ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও প্রদীপের আলোয় আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হবে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি। উৎসবটি ভক্তদের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্ধকারের বিপরীতে আলো, অশুভের বিপরীতে শুভ এবং কল্যাণের প্রত্যয়ের প্রতীক।


আত্রাই বার্তা

সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত