৯ ম্যাচে ৭ হার: মুম্বাইয়ের ট্র্যাজেডির শেষ কোথায়?
আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটির নাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অথচ চলমান আইপিএল টেবিলের দিকে তাকালে তাদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কোনো ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৯ ম্যাচে ৭ হার আর মাত্র ২ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে তারা।
মুম্বাইয়ের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন অনেকটাই শেষ। যে দলটির ড্রেসিংরুমে রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদব আর জাসপ্রিত বুমরাহদের মতো তারকারা থাকেন, তাদের এমন দৈন্যদশা কেন? গত আসরেও সবার শেষে থেকে লিগ শেষ করেছিল তারা। এবারের আসরেও গল্পের কোনো পরিবর্তন নেই, বরং ট্র্যাজেডি আরও বেশি প্রক্যাশ্যে এসেছে।
মুম্বাইয়ের এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে তাদের প্রধান দুই অস্ত্রের ধার কমে যাওয়া। ‘ইয়র্কার কিং’ জাসপ্রিত বুমরাহ এবারের আসরে রীতিমতো অচেনা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেটের দেখাই পাননি তিনি। নবীন ব্যাটারদের কাছেও বেধড়ক মার খাচ্ছেন এই পেসার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৫৪ রান দেওয়া বুমরাহকে দেখে বিশ্বাস করাই কঠিন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার।
অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ৯ ম্যাচে মাত্র ২০.৩৩ গড়ে ১৮৩ রান করা ‘মিস্টার ৩৬০’ যেন উইকেটে থিতু হতেই পারছেন না। কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে খেলোয়াড়দের আগলে রাখলেও মাঠের পারফরম্যান্স বলছে অন্য কথা।
মুম্বাইয়ের ব্যাটিং অর্ডারের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গত পাঁচ ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরে। রোহিতহীন টপ অর্ডার যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ডি কক থেকে শুরু করে মালেওয়ার, কেউই ওপেনিংয়ে কাঙ্ক্ষিত সাপোর্ট দিতে পারছেন না।
তবে মুম্বাইয়ের মাঠের কৌশলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে। সাবেক ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি সাফ জানিয়েছেন, হার্দিককে ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা সেভাবে সমর্থন দিচ্ছেন না। অধিনায়ক হিসেবে হার্দিক যেন একাই লড়াই করছেন। যেখানে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছায়া হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তিনি অনেকটাই একাকী।
শুধু তাই নয়, যখনই টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে, মুম্বাইয়ের মিডল অর্ডার সেই ক্ষত আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিলক ভার্মা, নামান ধীর কিংবা রাদারফোর্ড কারোর ব্যাটিংয়েই তেমন পেশাদারিত্ব দেখা যায়নি যা দিয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২৪০ রান তাড়া করতে গিয়ে ২২২ রান তুলেও কেবল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে দলটিকে।
বাকি ৫ ম্যাচে মুম্বাই যদি অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে সব কটি ম্যাচও জেতে, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ১৪। বর্তমানে টেবিলের প্রথম চারটি দলের পয়েন্ট এবং হাতে থাকা ম্যাচের সংখ্যা বিচার করলে মুম্বাইয়ের জন্য দরজা প্রায় বন্ধ। মুরালি কার্তিকের ভাষায়, মুম্বাইয়ের এবারের মিশন আক্ষরিক অর্থেই শেষ।
বিষয় : আইপিএল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স