সারপ্রাইজ -ভালোবাসার গল্প
-ওই নীলা শোন
-বল
-অবনি কোথায় রে ?
-জানি নাতো ?
-স্কুলে আসে নাই ?
-হুম্ম , এসেছিলো তো ।
-কিছু কি বলে গেছে নাকি?
-না তো । কেনো তোমার সাথে কিছু হয়েছে নাকি? কথা হয় নাই ?
-ফোন বন্ধ রে , ওর বাসার ওই দিকে গেছিলাম , কিন্তু আজ জানালার কাছে ছিলো নাতো ।
-কেনো রে , নিশ্চই বাসায় কোন সমস্যা হয়েছে ।
-তুই চিন্তা করিস না , আমি দেখছি ।
-প্লিজ একটু দেখ ।
নিশু , বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । বাবা অনেক ধনী , ব্যবসা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকায় পরিবারের তেমন খোজ নেন না । যদিও তিনি এতো কিছু করেন পরিবারের জন্যই । নিশু ভালোবাসে অবনিকে । অবনি ক্লাস ১০ এ পড়ে । নিশু ইন্টার এ পড়ে , তারা দুজন দুজন কে খুব ভালো বাসে । কিন্তু অবনির একটা সমস্যা আছে , সে চায় নিশু পড়ালেখা করুক । কারণ নিশু সারাদিন ঘুরে বেড়ায় , তাকে বাধা দেয়ার কেউ নেই । একমাত্র ছেলে তার মা ও তাকে তেমন কিছু বলতে চায় না । অবনি অনেক চেষ্টা করেছে নিশু কে ভালো পথে অনতে কিন্তু পারে নি । তবুও খুব ভালোই কাটে তাদের দিন আনন্দঘন মূহুর্ত গুলো । তবে হঠাৎ করে নিশু লক্ষ্য করে অবনি কেমন যেন পালটে গেছে । অবনি প্রতিদিনজানালার কাছে বসে থাকে , আর নিশু দূর থেকে দেখে থাকে ।কিন্তু আজ সে জানালার কাছে আসেনি । কোন ধরনের যোগাযোগ করতে পারে নি সে । যদিও অবনির স্কুলে নিশুর কড়া নিষেধ রয়েছে তবুও নিশু এসেছে ।
কিন্তু অবনি কোথায় ? পরিচিত কে জিজ্ঞেস করে নিশু বাসায় ফিরে যায় । এভাবে কয়েকদিন সে অবনির স্কুলে যায় তবে একদিন ও তার দেখা পায় না সে । যদি কোন সমস্যায় থাকে তবে সে কে জানাতে পারত । কি হয়েছে অবনির এই চিন্তায় নিশুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে ।আগে সময় কাটতো অবনির বকা খেতে অথবা , অবনির সাথে ঝগড়া করতে । এখন এখানে ওখানে পাগলের মতো ছুটে বেড়ায় । এখন মনে মনে ভাবে অবনির সবকথা মেনে চলবে , যদি সে একবার এসে নিশুর গলা জড়িয়ে ধরে বলে আর কখনো তোমাকে ছেরে যাবো না । কিন্তু অবনি আর আসে না । হঠাৎ একদিন , নিশু রাস্তার মোড়ের শান বাধা বট গাছের নিচে শুয়ে অবনির চিন্তায় বিভোর , খেয়াল করল অবনি যাচ্ছে । বাইকে একটা ছেলের সাথে , আই কন্টাক্ট হয়েছিলো । নিশু বিশ্বাস করতে পাড়ছে না যে অবনি একাজ করতে পারে নিজের মন কে সান্ত্বনা দিলো এবার , ভুল দেখেছে সে । কিন্তু আরেক দিন সে দেখল বাইকের পেছনে অবনিকে বসা । সামনে সেই ছেলেটি বসা । এবার সে কোন ভাবেই মেনে নিতে পাড়ল না । পরের দিন অবনির স্কুলে চলে গেল । অবনির বান্ধবী নীলার সাথে দেখা করল ।
- আসলে ভাইয়া , অবনি তেমন একটা স্কুলে আসে না । মাঝে মাঝে একটা ছেলের সাথে আসে , তবে ক্লাস করেই চলে যায় ।
- ওই ছেলেটা কে , কিছু জানিস কি?
-এ ব্যাপারে সে আমদের কিছুই বলে না , জানতে চাইলে এড়িয়ে।
- ওর সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারবি কি?
- ওর সাথে তো তেমন কথা হয় না , আসলে কথা বলার সুযোগ হয় না ।
এর পর থেকে নাকি অবনি আর স্কুলেও আসে না । দেখতে দেখতে ১ বছর কেটে যাচ্ছে ।
নিশুর ফাইনাল পরীক্ষা সামনে । সে এখন পড়ালেখায় মন দিতে চেষ্টা করছে । যে তাকে এভাবে একা রেখে চলে গেছে , কি লাভ তাকে মনে করে কষ্ট জমানোর । পরীক্ষার আর মাত্র ২ মাস । মন দিয়ে পড়া লেখা শুরু করে সে । দেখে পড়া লেখা করলে আর অবনির কথা মনে খুব কম পড়ে । কাল তার পরীক্ষা , বাবা মাকে ডেকে সে মাফ চেয়ে দোয়া চায় । আজ মা অনেক খুশি , বাবাও কথা দেয় এখন থেকে সব সময় মিশুর খেয়াল রাখবে । নিশু আজ সবচেয়ে খুশি । মনে মনে ধন্যবাদ দেয় অবনিকে , তবে এতদিনে নিশুর মন থেকে অবনির নাম টা ঝাপসা হয়ে গেছে । এক এক করে সব পরীক্ষায় সে খুব ভালো করে । রেজাল্ট খুব ভাল আসে । ৬ মাস পরে সে কলেজে যায় সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে । সেখানে দেখা হয় অবনির সাথে , অবনি কলেজে ভর্তি হয়েছে । নিশু তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে চলে আসে ।
------------৫ বছর পরের কথা-----------
-আসতে পারি কি?
-জী , স্যার আপনার সাথে আমার কিছু ব্যক্তিগত কথা আছে ।
-এটা সরকারী অফিস । এখানে কোনো ব্যক্তিগত বলার নিয়ম নেই ।
-আমি আজ বিকেল ৫ টায় নদীর পাড়ে আপনার অপেক্ষায় থাকবো ।
নিশু এখন তাদের উপজেলার নির্বাহী অফিসার । অবনি এসেছে তার সাথে দেখা করতে এসেছে ।
৫.১৫ বাজে । ১৫ মিনিট ধরে বসে আছে তারা । কোন কথা নেই তাদের । নিশু শুরু করল
- আমি জিজ্ঞেস করব না , কেনো সেদিন আমাকে ছেরে গিয়েছিলে ।
-কিন্তু আমি আজ বলব । তোমাকে শুনতেই হবে , তোমার জানা দরকার কেন তোমাকে আমি ছেড়ে গেছিলাম ।
- আমার হাতে সময় খুব কম
-আজ কোনো বাধা মানবো না । তুমি কতো পাল্টে গেছো ।
আসলে তোমাকে পাল্টানোর জন্যই তোমার মা আমকে এটা করতে বলে । উনি আমকে এসে জখন বলে আমি না করিনি , কারণ তুমি সঠিক পথে আসো । তুমি যখন তোমার পথ খজে পেয়েছ তখন তোমার মা সহ আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম ।
তবে কথা ছিলো আবার সব আগের মতো হবে আমাদের সম্পর্ক । কিন্তু তোমার মা আমাকে
তোমার সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে । তবুও আমি কয়েক বার তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি । কিন্তু তুমি তখন আমায় এভোয়েড করা শুরু করে দিয়েছ ।
আমার মনে হয়েছে এসব কথা তোমাকে জানানো উচিত , তাই বললাম ।
-আমি আমার মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি । এখন আর দিতে পারবো না । আমার বিয়ে ঠিক করছে মা বাবা ।
আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ , তাদে অবাধ্য হবো না । আমার করার কিছুই করার নেই । ভাল থেকো ।
চলে এসেছে নিশু , কিন্তু ইচ্ছা করছিলো অবনিকে জড়িয়ে ধরে বলতে , এখনো আগের মতোই ভালোবাসি ।
কিন্তু পাড়ল না । রাতে ঘুম হলো না , সকালে খাওয়ার টেবিলে
বাবা বলল মেয়ে পছন্দ হয়েছে তাদের , নিশু দেখলেই বিয়ের পাকা কথা বলবে তারা।
নিশু বলে তাদে কথাই আসল কথা । বিয়ে ঠিক করতে ।
বিয়ের রাতে ---------
দুজনেই নীরব , নিশু নীরবতার অবসান ঘটিয়ে তার অতীত বলা শুরু করে । সব শেষে সে বলে ,
-আমি নিজে কে ক্ষমা করতে পারব কি না জানি না , অবনিকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি ।
ক্ষমা পাওয়ার কোন অধিকার আমার নেই ।
-যদি কেউ অধিকার দেয় ।
-তুমি?
-কেনো ? অন্য কেউ হলে বুঝি বেশি খুশি হতে ? আচ্ছা আমি চলে যাচ্ছি।
-আরে না ।
-সেদিন নদীর পাড় থেকে আসার পর বাসায় দেখি আমাদের দুজনের বাবা মা
আমাদের বিয়ে নিয়ে কথা বলছে । তোমার পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবার পর আমি যদি
তোমার কাছে ফিরে যেতাম তুমি যদি আবার আগের মতো হয়ে যাও , এই ভয়ে মা তোমার কাছে আমাকে
যেতে দেয় নি । আর সেদিন বিয়ের কথা পাকা হবার দিন মা তোমাকে যানাতে নিষেধ করে দেয় । সারপ্রাইজ
-...............
-ওই কোথায় যাচ্ছ
-ভয় পেও না , চলে যাচ্ছি না । মাকে একটা সালাম করে আসি ।
-ছেলে মানুষি টা তোমার গেলো না । অনেক রাত হয়েছে কাল সকালে সালাম করো ।
-হুম্ম । তবে একটা শর্ত আছে কিন্তু?
-বলো গো ।
-আমাকে ছেড়ে আর কক্ষনো যেতে পারবেনা ।
-যাবো নাতো । তোমার ঘাড়ে চরে থকব।
-কথা এটা না ।
-তো কি?
- আমার অনুমতি ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না ।
-নাতো । তোমাকে ছেরে আর কোথাও যাবো না ।