অদৃশ্য টান - ভালোবাসার গল্প
>ওই রোহান, দ্বারা
>বল।
>ওই মেয়েটা কে রে? খুব যে হেসে কথা বলছিলি।
>আমার খালাতো বোন। বেড়াতে এসেছে। কেন বলত?
>না মানে এমনি। কবে যাবে?
>আজিব তো। কবে এসেছে জানতে না চেয়ে তুই বলছিস কবে যাবে। তুই যদি তোর খালার বাসায় যাস, আর যদি আমার মতো সুন্দর, স্মার্ট খালাতো ভাই থাকে তুমি আসতে চাইবি?
>এহ, আসছে সলেমান খান । কলেজ যাবি না?
>নাহ, ঘুরতে যাব।
>অই হারামি তোর আর আমার এতদিনের ফ্রেন্ডশিপ একদিন ও তো ঘুরতে নিয়ে গেলিনা। আর কোথা থেকে উরে এসে জুড়ে বসল একটা মেয়ে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবি?
>ফ্রেন্ডশিপ? বাড়ির সামনে দাড় করিয়ে রেখেছিস, ঢুকতে বলছিস না আবার ফ্রেন্ডশিপ। আমি আর চিল্লাইতে পারব না। বাই
>যা যা তোর খালাতো বোনের কোলে গিয়ে ঘুমা।
রোহান ও রুমি। পিচ্চি কালের বন্ধু, যাকে সোজা বাংলায় বলা যায় ন্যাংটা কালের বন্ধু। একই স্কুল, একই কলেজ, একই যায়গায় থাকে । ঝগড়া করে আনলিমিটেড। কিন্তু একজনের কষ্ট অন্যজন সহ্য করতে পারে না। তারা অনেক ভাল বন্ধু। রুমি রোহানের সাথে অন্য কোনো মেয়েকে সহ্য করতে পারে না । এটাই হয়ত ভালবাসা।
>কিরে তুই নাকি কলেজ আসবি না?
>আরে আজ বেড়াতে যাওয়ার মুড নাই । তাই আসলাম।
>মিথ্যা বলিস কেন, ওই মেয়ে তোকে পাত্তা দেয়নাই। ভাব নিস কেন।
>হুম তোকে বলছে। আমার পেছনে কত মেয়ে ঘোরে।
>ঘুরবে না, তুই তো গার্লস স্কুলের বাস ড্রাইভার।
>কি বললি পেত্নী?
>তোর আবার কানের সমস্যা হলো কবে থেকে?
>ধুর ভাল লাগে না। তুই থাক, আমি গেলাম।
>ওই রোহান শোন?
>আমার কানের সমস্যা আমি শুনতে পারছি না।
এভাবেই তাদের প্রতিটা দিন কেটে যায়। রোহান দেখতে অনেক সুন্দর, চরিত্র অনেক ভাল। রুমিও ঠিক তেমন। একটু চাপা স্বভাবের। রোহানের সাথে ঝগড়া করলেও খুব ভয় পায় ওকে।
>হ্যালো
>বল। কানের সমস্যা হলেও শুনছি।
>রাগ করেছিস অনেক, তাই না?
>কিছু বলবি?
>প্লিজ রাগ করিস না। ঠাণ্ডা হ।
>তোর সমস্যাটা কি। কিছু বলার থাকলে বল?
>না মানে। রাতে খেয়েছিস?
>নাহ খাই নাই। তুই না খেলে আমি খেতে পারি?
>কেন, আমি না খেলে তোর খাওয়া যাবে না?
>সেটাই তো। ছাগল কোথাকার আমি অনেক আগেই খাইছি।
>তুই এভাবে কথা বলছিস কেন আমার সাথে?
>শোন ভাই একটু শান্তিতে থাকতে দে খুব টায়ার্ড লাগছে ।
এই কথাটা হয়ত আশা করেনি রুমি । হয়ত কিছু বলার চেষ্টা করেও বলতে পারেনা সে অথবা বলার সুযোগ পায় না । এভাবেই
হঠাৎ দুজনের দেখা। রোহান কোনো কথা না বলে রুমিকে টেনে বাসায় নিয়ে গেল। রোহান তার মাকে সোজা বলে দিল "মা তুমি জানতে চেয়েছিলে না আমার নীরবতার কারণ? এই সেই কারণ। আমি একে ভালো বাসি" রুমি আর রোহানের মা অবাক হয়ে শুনছে। রুমির ফর্সা মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।
বিয়ে ঠিক হয়ে গেল তাদের। কিন্তু কেউ এখন পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলে নি। বাসর রাত। সারা বাড়ি লাল নীল আলোয় ভরে গেছে। যেন লান নীল প্রজাপতি। তারাও আজ রোহান রুমির বিয়েতে আনন্দ করছে। রুমিই প্রথম কথা বলল।
>ওই তুমি আমাকে সেদিন রাগ দেখিছিস কেন?
>বাদ দে। তুই যে এতো ভাল বাসিস আগে বলিস নি কেন?
>সেদিন বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুই রেগে গিয়েছিলি আর বলা হয় নি। জানিস তোকে কিভাবে খুঁজেছিলাম আমি। চোখের সামনে পেয়েও বলতে পারিনি নি।
>আমিও খুঁজেছি আর তোকে দূরে হারাতে দিব না। আমার বুকে রাখব তোকে।
>ওই নিজের বউকে তুই করে বলে?
>তুই ও তো বলছিস। আচ্ছা। তোমাকে খুব বেশি ভালবাসি।
>আমিও তোমাকে ।
শক্ত করে জরিয়ে আছে দুজন। এভাবেই সত্য ভালবাসা দুজন কে কাছে টেনে নেয়।