দেবে কি আর একটি সুযোগ? - ভালোবাসার গল্প
ছেলে > কেমন আছ?
মেয়ে > তুমি যেমন রাখতে চেয়েছিলে তার থেকে ভাল আছি।
ছেলে > আমি তো আমাকে শুধরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। তুমি সুযোগ দিলে না তো।
মেয়ে > তোমাকে আগে অনেক বার সুযোগ দিয়েছি। তুমি তা কাজে লাগাতে পারনি।
ছেলে > এবার তো বেশ শিক্ষা পেয়েছি। আরেকটা সুযোগ পেতে পারি কি?
মেয়ে > ৩ টা বাজে আমার কোচিং আছে। ভাল থেকো।
এতক্ষণ যাদের কথা শুনলেন তারা রাহুল ও মিতালি। তারা ভালবাসার চাদরে জরিয়ে ছিল ২ বছর। রাহুল বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান। হঠাৎ সে অন্য মেয়ের সাথে ঘুরাঘুরি শুরু করে। এমন কি ফ্লাটেও যায়। মিতালি ব্যাপারটা যানতে পারে, রাহুল ক্ষমা চায়। মিতালি সুযোগ দেয়। কিন্তু রাহুল আবার এসব করতে থাকে। মিতালি এবার রাহুল কে কিছু না বলে ওর মামার বাড়ি চলে যায়। এদিকে রাহুল মিতালিকে খুঁজতে থাকে। মিতালির স্মৃতি তাকে তারা করে বেরায়। রাহুল অনেক ভবে মিতলিকে খজে কিন্তু খুঁজে পায় না। মানসিক ভাবে ভেঙে পরে রাহুল। নিজেকে এবার শুধরিয়ে নেয় সে। কিন্তু লাভ কি দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম সে বুঝেনি। আজ ৪ বছর পর তাদের দেখা। রাহুল রাহুল এখন তার বাবার বিজনেস দেখে। অন্যদিকে মিতালি ডিগ্রীতে ভর্তি হয়েছে। বাসায় ফিরে এসেছে।
রাহুল > মিতালি?
মিতালি > তুমি এখানে?
রাহুল > কাল তোমাকে ফলো করেছিলাম। কেমন আছো?
মিতালি > ভাল। আমাকে বিরক্ত করছ কেনো?
রাহুল > প্লিজ আর একটা সুযোগ?
মিতালি > দিয়েছিলাম তো কাজে লাগাতে পার নি?
রাহুল > ৩০ মিনিট সময় পেতে পারি কি।
মিতালি > কাল ঠিক চারটায় নদীর তিরে আসবে। বাই ভাল থেকো।
পরের দিন মিতালির কোচিং এর সামনে রাহুল। রাহুল নিজের ভুল বুঝতে পেরে বারবার মিতালির কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। মিতালি সময় দিয়েছে। পরের দিন নদীর তীরে
মিতালি > বাহ, আগে তো কমপক্ষে ২০ মিনিট লেট হতো। আজ ঠিক সময়েই দেখছি?
রাহুল > আমিতো আমাকে বদলে নিয়েছি। বাবার ব্যবসা সামলাচ্ছি। কিন্তু তুমি এখন আর আমায় সুযোগ দিচ্ছ না। বিশ্বাস করো, আগের থেকে তোমায় বেশি ভালবাসি।
মিতলি > শুনে ভাল লাগল। কিন্তু আমি কিভাবে তোমাকে মেনে নিব? তুমি যে হাতে তুমি আমাকে ছুবে, সেই হাতে এর আগেও অন্য মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছ।
রাহুল > আচ্ছা। আমি জেদ করব না। আমি তোমার প্রতীক্ষায় থাকলাম। বাই। ভাল থেকো।
রাহুল উঠে চলে গেল। কিছুদূর গিয়ে চোখ মুছলো। অন্যদিকে মিতালির চোখেও জল। তবে কেউ কারো চোখের জল দেখতে পেল না। রাহুল আর কোনোদিন মিতালির সামনে যায় নি। হঠাৎ করেই রাহুল এর বাবা অসুস্থ হয়ে পরে। তিনি ছেলের বিয়ে দিতে আগ্রহী হন। রাহুল কে বলে কোন পছন্দ আছে নাকি। রাহুল নেই বলে চলে আসে। কারণ বলে আর কি লাভ। রাহুল এর বিয়ে ঠিক করা হলো। মেয়েকে সে চোখেও দেখেনি রাহুল এর বিয়ে আজ। মন খারাপ। বিয়ের সব কাজ শেষে বাসর ঘরে রাহুল। সামনে তার বউ। রাহুল চায় না আর কোনো মেয়েকে কষ্ট দিতে। তাই সে বউ এর হাত ধরলো।
বউ > মাফ চাও,
রাহুল > তুমি?
রাহুল এর সাথে বিয়ে হয়েছে মিতালির সাথে, অবাক চোখে রাহুল
বউ > কি ভেবেছিলে? আমাকে ছেরে অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে? আমাদের সবকিছুই তোমার এবং আমার মা জানতেন। তোমার মতিগতি ভাল না দেখে তোমার মা মানে আমার শাশুড়ি আম্মা আমার মায়ের সাথে কথা বলে। আমার মা আমাকে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে। তোমার খবর আমি নিতাম। তুমি সোজা হয়েছ তাই মা আমাকে নিয়ে আসে। আর আমাদের বিয়ে হবেই তাই আমাকে কষ্ট দেয়ার শিক্ষা দিলাম। আর কক্ষনো আমাকে কষ্ট দিবে?
রাহুল > অনেক শিক্ষা হইছে। তোমাকে বুকে রাখব সারা জীবন।
এই ভাবেই জন্ম নিল আরেকটি নতুন সংসার। ভালবাসার সংসার