যে দুই কারণে আরও জনপ্রিয়তা কমেছে ট্রাম্পের
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। জ্বালানিপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরান নিয়ে মানুষের মনে অসন্তোষই এর মূল কারণ।
রয়টার্স/ইপসোস-এর করা এক নতুন জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। চার দিন ধরে চালানো এ জরিপ শেষ হয়েছে গত সোমবার। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। গত সপ্তাহেও এই হার ছিল ৪০ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় সমর্থন দিয়েছেন। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ইস্যুই ছিল তার প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে।
দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ, যা তার আগের ও বর্তমান মেয়াদের রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন। এমনকি তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের যেকোনো সময়ের চেয়েও এই হার কম। অথচ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের দুশ্চিন্তাই ছিল ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
‘অহেতুক যুদ্ধে’ যোগ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন, যা গত সপ্তাহের ৩৭ শতাংশ থেকে কমেছে। বিপরীতে হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৬১ শতাংশ নাগরিক, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৯ শতাংশ।
রয়টার্স/ইপসোসের আগের জরিপগুলো চালানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রথম দফার হামলার পরপরই। সে সময় অনেক মার্কিন উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গিয়েছিল, ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা হামলার পক্ষে এবং ৪৩ শতাংশ বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ এ ব্যাপারে অনিশ্চিত ছিলেন।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে। মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এতে দেশ নিরাপদ হবে। আর বাকিরা মনে করেন, এর উপকার হবে যৎসামান্য।
কয়েক দিন ধরে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়ে আসতে পারে। তবে ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এদিকে রয়টার্স গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।