ঢাকা   বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
আত্রাই বার্তা

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত



অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত

অ্যানিমিয়া বলতে আমরা সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত সমস্যাকেই বুঝে থাকি। কিন্তু এর বাইরেও একটি গুরুতর ও বিরল ধরনের রক্তরোগ রয়েছে—অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া। এই রোগে শরীরের রক্ত তৈরির কেন্দ্র অর্থাৎ বোন ম্যারো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলক কম হলেও সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

এই রোগে বোন ম্যারো পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে রোগীর শরীরে তীব্র দুর্বলতা, সংক্রমণের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বোন ম্যারো ফেলিওর বলা হয়।

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া যেকোনো বয়সেই হতে পারে, তবে তরুণদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। অনেক সময় এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বংশগত সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বেনজিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ, রেডিয়েশন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এবং অটোইমিউন রোগকে দায়ী করা হয়।

রোগটির লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাত, অল্প আঘাতে সহজে নীল দাগ হওয়া, ঘন ঘন জ্বর বা সংক্রমণ এবং মুখে ঘা হওয়া। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বর্তমানে এ রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি, যা মিল থাকা ভাইবোন বা উপযুক্ত ডোনার থেকে করা হয় এবং এর সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য ট্রিপল ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অ্যান্টিথাইমোসাইট গ্লোবুলিন, সাইক্লোস্পোরিন ও এলট্রম্বোপ্যাগ অন্তর্ভুক্ত। এই পদ্ধতিতে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর অবস্থার উন্নতি সম্ভব।

সব মিলিয়ে, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বিরল হলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ। তাই শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সংক্রমণ বা রক্তক্ষরণের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আত্রাই বার্তা

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬


অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া উচিত

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

অ্যানিমিয়া বলতে আমরা সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত সমস্যাকেই বুঝে থাকি। কিন্তু এর বাইরেও একটি গুরুতর ও বিরল ধরনের রক্তরোগ রয়েছে—অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া। এই রোগে শরীরের রক্ত তৈরির কেন্দ্র অর্থাৎ বোন ম্যারো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলক কম হলেও সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

এই রোগে বোন ম্যারো পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে রোগীর শরীরে তীব্র দুর্বলতা, সংক্রমণের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বোন ম্যারো ফেলিওর বলা হয়।

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া যেকোনো বয়সেই হতে পারে, তবে তরুণদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। অনেক সময় এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বংশগত সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বেনজিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ, রেডিয়েশন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এবং অটোইমিউন রোগকে দায়ী করা হয়।

রোগটির লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাত, অল্প আঘাতে সহজে নীল দাগ হওয়া, ঘন ঘন জ্বর বা সংক্রমণ এবং মুখে ঘা হওয়া। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বর্তমানে এ রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি, যা মিল থাকা ভাইবোন বা উপযুক্ত ডোনার থেকে করা হয় এবং এর সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য ট্রিপল ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অ্যান্টিথাইমোসাইট গ্লোবুলিন, সাইক্লোস্পোরিন ও এলট্রম্বোপ্যাগ অন্তর্ভুক্ত। এই পদ্ধতিতে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর অবস্থার উন্নতি সম্ভব।

সব মিলিয়ে, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বিরল হলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রোগ। তাই শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সংক্রমণ বা রক্তক্ষরণের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


আত্রাই বার্তা

সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত