ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
আত্রাই বার্তা

বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক


মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

দিনাজপুরের খানসামায় শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে উপজেলার কৃষকরা। স্বাভাবিক কর্মজীবনে দেখা দেয় স্থবিরতা। তীব্র শীতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ নিয়েও বিপাকে পড়েন তারা। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে যাওয়ায় একযোগে শুরু হয়েছে বোরো চাষের চারা রোপণ। শীত উপেক্ষা করে বাড়ছে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। জমি তৈরি, হালচাষ, বোরো ধানের চারা বীজতলা থেকে উঠানো শেষে এবার চারা জমিতে রোপণের মতো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খানসামার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন  ২৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছি। বোরো চাষাবাদের জন্য হাইব্রিড ৫৫০ হেক্টর, উফশি ২৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপনের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। হাইব্রিড ৩০ হেক্টর, উফশি ১৫০ হেক্টর। এ পর্যন্ত  ১৮০  হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।  এখন পযন্ত অর্জিত হয়েছে  ​২০০ হেক্টর জমিতে।

কৃষক নূর জানান, তিনি দুই একর জমিতে চারা রোপণ করেছেন। প্রতি একর জমিতে চারা রোপণের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছেন। নিজেই ধানের চারা বীজতলা থেকে উঠিয়েছেন।

আঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক মোকলেছুর ও নাজিমুল বলেন, আমরা বোরো ধান লাগানো শুরু করছি। এ বছর জমিতে পানি দিতে হচ্ছে কাঠা প্রতি ৬০০- ৭০০ টাকা। যেখানে অন্যান্য বছর কাটা প্রতি ৫০০ টাকা করে লাগতো। এছাড়াও কাজের লোকের অভাবে নিজেরাই ধান লাগাইতাছি'। এদিকে কৃষকরা যেনো সঠিকভাবে বোরো চাষ ও পরিচর্যা করতে পারে সেজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

বোরো রোপন করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পাঁচজন করে দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই একর জমিতে চারা রোপণ করতে পারি, এতে আমাদের ৫০০-৬০০ টাকার মতো প্রতিদিন ইনকাম করতে পারি, আবার অনেক দিন কাজ থাকেও না। সর্বশেষ মৌসুমে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ লাভের মুখ দেখেছেন, সেজন্য এবার বোরো ধানের চাষাবাদ বেশি হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হাবিবা আক্তার     বলেন, এবার ২৯৪০  হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সহ সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবল জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় প্রায় এক লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ‌্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফসি জাতের বোরো ধান চাষ করা হবে। ইতোমধ্যে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। চাষিরা যেন সঠিকভাবে বোরো চাষ করতে পারে সে জন্য প্রতি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

আত্রাই বার্তা

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬


বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

featured Image

দিনাজপুরের খানসামায় শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে উপজেলার কৃষকরা। স্বাভাবিক কর্মজীবনে দেখা দেয় স্থবিরতা। তীব্র শীতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ নিয়েও বিপাকে পড়েন তারা। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে যাওয়ায় একযোগে শুরু হয়েছে বোরো চাষের চারা রোপণ। শীত উপেক্ষা করে বাড়ছে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। জমি তৈরি, হালচাষ, বোরো ধানের চারা বীজতলা থেকে উঠানো শেষে এবার চারা জমিতে রোপণের মতো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খানসামার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষকরা।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন  ২৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছি। বোরো চাষাবাদের জন্য হাইব্রিড ৫৫০ হেক্টর, উফশি ২৩৯০ হেক্টর জমিতে রোপনের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। হাইব্রিড ৩০ হেক্টর, উফশি ১৫০ হেক্টর। এ পর্যন্ত  ১৮০  হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।  এখন পযন্ত অর্জিত হয়েছে  ​২০০ হেক্টর জমিতে।


কৃষক নূর জানান, তিনি দুই একর জমিতে চারা রোপণ করেছেন। প্রতি একর জমিতে চারা রোপণের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছেন। নিজেই ধানের চারা বীজতলা থেকে উঠিয়েছেন।


আঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক মোকলেছুর ও নাজিমুল বলেন, আমরা বোরো ধান লাগানো শুরু করছি। এ বছর জমিতে পানি দিতে হচ্ছে কাঠা প্রতি ৬০০- ৭০০ টাকা। যেখানে অন্যান্য বছর কাটা প্রতি ৫০০ টাকা করে লাগতো। এছাড়াও কাজের লোকের অভাবে নিজেরাই ধান লাগাইতাছি'। এদিকে কৃষকরা যেনো সঠিকভাবে বোরো চাষ ও পরিচর্যা করতে পারে সেজন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন।


বোরো রোপন করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পাঁচজন করে দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই একর জমিতে চারা রোপণ করতে পারি, এতে আমাদের ৫০০-৬০০ টাকার মতো প্রতিদিন ইনকাম করতে পারি, আবার অনেক দিন কাজ থাকেও না। সর্বশেষ মৌসুমে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ লাভের মুখ দেখেছেন, সেজন্য এবার বোরো ধানের চাষাবাদ বেশি হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হাবিবা আক্তার     বলেন, এবার ২৯৪০  হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সহ সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।


দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবল জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ উপজেলায় প্রায় এক লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ‌্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফসি জাতের বোরো ধান চাষ করা হবে। ইতোমধ্যে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। চাষিরা যেন সঠিকভাবে বোরো চাষ করতে পারে সে জন্য প্রতি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।


আত্রাই বার্তা

সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত