৮ বছরের শিশুকে অপহরণ অতঃপর মুক্তিপণ দাবি
দিনাজপুর জেলাধীন খানসামা উপজেলায় ২য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। খোঁজাখুঁজি করলে আসে মুঠোফোনে ফোন অতঃপর মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারী।
অপহৃত আরিফুজ্জামান (৮) হলেন উপজেলার ৪ নং খামারপাড়া ইউপির কায়েমপুর গ্রামের ডাক্টারপাড়ার আতিউর রহমানের ছোট ছেলে।
(২ ডিসেম্বর) শুক্রবার বিকেলে অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত আরিফুজ্জামানের বাবার মুঠোফোনে ফোন আসলে মুক্তিপণ ১ লক্ষ্য টাকা দাবি করেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।
অপহৃত বাবা আতিউর জানান, আমরা বাবা ছেলে সকালে রসুন রোপন ও মাঠে কাজ শেষে দুপুর বেলা নদীতে চারজন ছেলেরসহ আমার ছেলে গোসল করতে যায়। গোসল শেষে জুম্মার নামাজ পড়ে খাওয়া দাওয়া করে সে খেলাধুলা করতে বাইরে যায়। খেলাধুলা করে বাসায় না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি করি, খোঁজাখুঁজির পর না পাওয়া গেলে আমাদের টেনশন বাড়তে থাকে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও মেলেনি সন্ধান।
ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় আমার ফোনে আসলে রিসিভ করি ওপাশ থেকে ফোনে আমাকে বলে আপনার ছেলেকে আমি কিডন্যাপ করেছি। আপনার ছেলেকে যদি আপনি পেতে চান তাহলে কাল সকালে সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে ১ লক্ষ টাকা নিয়ে দ্রুত আসিয়েন। টাকা নিয়ে আসলেই আপনার ছেলেকে আপনি পেয়ে যাবেন। এরপরই আমি সেই ফোন নাম্বারটি নিয়ে খানসামা থানা পুলিশের কাছে দেই এবং অভিযোগ করি।
সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই বিষয়টি তদন্তের জন্য আমার বাড়িতে পুলিশ আসে এবং তদন্ত করেন। এরই মধ্যে কিছুক্ষণ পর রাত ৯ টায় আবার আমার ফোনে ওই নাম্বার থেকে ফোন আসে, কোনরকম কথাবার্তা ছাড়াই ফোনটি কেঁটে যায়।
তিনি আরো জানান আমি নিজেকে খুব অসহায়ত্ব বোধ করছি, আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আমার ছেলে যেন সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ সন্দেহ ভাজন ওই এলাকার ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়ছে।
খানসামা থানার ওসি চিত্তরঞ্জন রায় জানান, ঘটনাটি জানার পর হতেই শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ জনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে। অতিসত্বর শিশুটিকে উদ্বার করতে পারবো। তবে অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) খোদাদাদ সুমন বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান আছে, আমরা খুব শীঘ্রই প্রকৃত ঘটনা বের করে আসামীকে আইনের আওতায় আনব।