প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৮ ঘণ্টা পর বরিশালের ৭ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক
টানা ৮ ঘণ্টা ভোগান্তির পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বরিশালের চরকাউয়া থেকে ৭ রুটে ফের বাস চলাচল শুরু হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।
চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আজ সকাল ১০টা থেকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ৭ রুটের হাজার হাজার যাত্রীদের দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চরকাউয়া থেকে ৭ রুটে বাস ধর্মঘটের খবর পেয়ে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহ রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমাপ্তি রায় এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) পরিদর্শক ইকবাল আহম্মেদ বিকেল সাড়ে ৫টায় চরকাউয়া বাস টার্মিনালে যান। সেখানে বাস মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি’র সঙ্গে তারা কথা বলেন এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করতে অনুরোধ জানান।
মনিরুল ইসলাম রাত ৮টায় বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধে আমরা সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭ রুটে বাস চালানো শুরু করেছি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাহ রফিকুল ইসলাম বলেন, চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নকে বলেছি বাস চলাচল শুরু করার জন্য। তারা আমার অনুরোধ রেখেছেন। আগামীকাল বুধবার চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ বরিশালের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে চরকাউয়া থেকে ৭ রুটে বাস চলাচলের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চরকাউয়া থেকে ৭ রুটে আজ সকাল ১০টা থেকে আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। তখন বাস চলাচল বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, সোমবার বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে চরকাউয়া রুটের বাস শ্রমিকদের নোংরা ভাষায় গালাগাল দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিকর বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন।
উল্লেখ্য, বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পূর্বতীর চরকাউয়া থেকে প্রায় দেড়যুগ ধরে ৭টি রুটে বাস চলাচল করছে। এই ৭ রুটে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদসহ ৬ দফা দাবিতে সোমবার বেলা ১১ টায় বরিশাল নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী নাগরিকরা।
‘চরকাউয়ার ৭টি রুটের যাত্রীবৃন্দ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চরকাউয়া থেকে প্রতিটি রুটে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোনো যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে না চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করেন বাসের শ্রমিকরা। ৭ রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসের ফিটনেস নেই। বেশিরভাগ চালকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী নাগরিকরা চরকাউয়া থেকে ৭ রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করা সহ ৬ দফা দাবি আদায়ের জন্য বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিআরটিএ’র বরিশাল বিভাগীয় পরিচালকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।