কবর দাফনে বাঁধা, কবরস্থান দখলের অভিযোগ
বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ হলেও, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলিম। মৃত্যুর পর সকল মুসলমানদের শেষ ঠিকানা হল কবর। আর সেই কবরে দাফন করতে বাঁধা প্রদান। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী ও দোয়ানী কাশিমনগর মৌজার পাকা সড়ক সংলগ্ন একটি কবরস্থান দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। সেই কবরস্থানে কবর খনন করতেও বাঁধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃটিশ রেকর্ডিয় খাস খতিয়ানে ঐ এলাকার মুসলিম জনসাধারণের জন্য কবরস্থান হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল। এরপর থেকে অত্র এলাকার লোকজন মারা গেলে সে স্থানে কবর দিত। কিন্তু সেই কবরস্থানটি দখল করে একই এলাকার আঃ বাসেদ ও বাদশা দোকান ঘর নির্মাণ করে দখলে নেয়।
এমনকি চলতি বছরের ৪ এপ্রিল শুশুলী গ্রামের সহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক মারা গেলে তার কবর খনন শুরু করলে দখলদাররা বাঁধা দেয়। সেই কবরস্থানটি দখলমুক্ত করতে ঐ এলাকার পক্ষে জিয়াউর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ।
এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকে দেখে আসতেছি এই কবরস্থানে এজারউদ্দীন মাস্টার পাড়া ও সর্দারপাড়ার লোকজন মারা গেলে কবর দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে এজারউদ্দীন মাস্টার পাড়ার সহিদুল ইসলাম (৩৫) মারা গেলে দখলদাররা তাকে এখানে মাটি দিতে দেয়নি।
অভিযোগকারী জিয়াউর রহমান বলেন, সেটা মোটেই সুস্থ কোনো মানুষের কাজ নয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে আঃ বাসেদ শুধু কবরস্থান দখলই করে নি, তিনি সেই কবরস্থানের জায়গা স্থানীয় আলতাফের কাছে বিক্রি করেছে। দীর্ঘদিন হতে ব্যবহৃত কবরস্থানে যাতে অত্র এলাকার মুসলমানদের কবর দিতে বাঁধা প্রদান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে এজন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে কবরস্থানটি দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত আঃ বাসেদ বলেন, এই জায়গাটি আমরা দুই ভাই ভূমি অফিস থেকে বরাদ্দ পেয়েছি। এখানে কোন অন্য মানুষের কবর দেওয়া হত না। শুধুমাত্র আমাদের পারিবারিক কবরস্থান ছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফ হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। কবরস্থান দখলের ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।