পাকা রাস্তায় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে এলাকাবাসী, রাস্তায় থৈ থৈ পানি
এটা কি রাস্তা, না নদী? দেখে মনে হয় চারদিকে থৈ থৈ পানিতে ভরা যেন একটি নদী। ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাহাপুর বাজার সংলগ্ন সাহাপুর -মনকান্দা মুক্তিযোদ্ধা রোড নামে ঢালাইয়ের রাস্তা যেন এক নদী!পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সাহাপুর বাজার আলোর দিশারি স্কুলের সামনে থেকে খান বাড়ি এতিমখানা পর্যন্ত বেহাল অবস্থা। মনকান্দা, গুপ্তেরগাঁও,মামুদপুরবাসীর দুর্ভোগের আরেক নাম এই ঢালাইয়ের এ রাস্তা।
একটু বৃষ্টি হলেই পানি আটকে এ রাস্তা নদীতে পরিণত হয়। রাস্তায় পানি আটকে থাকার ফলে এ রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানজট চলাচল করে। পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার সাইটে কিছু কিছু স্থানে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হতে চলেছে।একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে একাকার হয়ে যায়।পাল্টে যায় রাস্তার চেহারা। এই রাস্তাটি দিয়ে দৈনিক ৪-৫ টি গ্রামের ৫-৭ হাজার মানুষ চলাফেরা করে।সরজমিন দেখা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় যেন এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। পুরো এলাকার রাস্তায় জমে থাকে প্রচুর ময়লা পানি। এর সঙ্গে আবার আশপাশে বসবাসরত বাসাগুলোর ব্যবহারিত পানি উপচে পড়ছে রাস্তায়।
এইটুকু রাস্তা অন্য রাস্তার চেয়ে একটু নিচু হওয়ায় ও ড্রেনেজ না থাকায় এসব বর্জ্য পানি জমে থাকছে রাস্তার উপরে। জমে থাকা এসব ময়লা পানি থেকে ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা জানান।পথচারী শরিফ জনান, ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় রাস্তাটি বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকে যা চলাচলে সমস্যা হয়। রাস্তাঘাটে লোকজন চলেফেরা সহ গাড়ি-ঘোড়া চলতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এ অবস্থায় রোড এক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এহেন অবস্থায় উত্তরণে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি জ্ঞাপন করছি। রাস্তার দুই পাশে বসবাসকারী ব্যবসায়ী তাসমিদ মেডিকেল হলের মালিক সজল,মুদি দোকানী আমিনুল,ঔষধ ব্যবসায়ী খোকন বলেন, ড্রেনের অভাবে বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত ও বৃষ্টির পানি আটকে রাস্তার উপরে পানি জমে যায়। এর ফলে আমাদের চলাচলে বিঘ্নসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।রাস্তা পাশে আলোর দিশারি স্কুলের পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটিতে পানি জমে থাকায় ছাত্র/ছাত্রীদের স্কুলে আসতে অসুবিধা হয়। অনেক সময় রাস্তার সাইটদিয়ে আসতে গেলে এতো পরিমান পানি থাকে যে,বাচ্চাদের স্কুল ড্রেস নষ্ট হয়ে যায়।
আমি দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাই।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার কছিম উদ্দিন জানান, আপাতত রাস্তার পাশের বসবাসকারীরা ড্রেনেজের জায়গা না দেওয়াতে কাজ করতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্য রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করবো। পানি নিষ্কাশনের জন্য ওই রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে।