খানসামায় সংরক্ষণের অভাবে বিলীন এর পথে গণকবর, চিহ্নিত করণে নেই কোনো পদক্ষেপ
স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর ৫০ বছর পেরিয়েও এখন পর্যন্ত খানসামা উপজেলার শহীদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। শুধু তাই নয় গণকবর চিহ্নিত এবং গণকবর গুলি সংরক্ষণের কোনো ব্যাবস্থা করা হয়নি।এজন্য ক্ষোভপ্রকাশ করেন খানসামা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও খানসামা ছাত্রলীগ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তানেররা ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সংরক্ষন না করার ফলে অস্থায়ী বাঁশের বেড়ায় শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে শহীদ পরিবার,খানসামা ডিগ্রী কলেজ ও খানসামা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সদস্য বাবু অমিয় কুমার গুহকে ১৯৭১ সালের ১ জুন গভীর রাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড.জহির উদ্দিনের বাড়ি থেকে আটক করে পাকিস্তানি দালালরা ২জুন খানসামা থানায় বন্দি করে রাখে। তার পরের দিন পাকবাহিনীকে খবর দিয়ে রাজাকাররা বাবু অমিয় কুমার গুহকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপরে সাইকেলে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী ও খানসামা উপজেলার সংযোগস্থল পুলহাট নামক স্থানে ইছামতী নদীর তীরে গুলি করে ও বেয়োনেট দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে রেখে যায়। একই স্থানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া টেডি ডাক্তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী খু্ট্টু মিয়াকে হত্যা করে পাকবাহিনী। পরে স্থানীয় তরনী কান্ত, নজরুল ইসলামসহ অনেকে তাদের লাশ নদী থেকে তুলে কবর দেন।
কিন্তু স্বাধীনতা ও শহীদদের মৃত্যুর ৫০ বছরেও এসব পরিবার শহীদ পরিবার হিসেবে সরকারী ভাবে স্বীকৃতি পায় নাই। শুধু অমিয় কুমার গুহয়ের নামে একটি রাস্তার নামকরণ ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন দিবসে খেলাধুলার নামকরণ ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন সাহায্য-সহানভূতি পায়নি পরিবারগুলো।
আর স্বাধীনতার সূর্বণজয়ন্তীতেও গণকবরের তালিকা ও সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের তালিকা তৈরী ও রাজাকারের তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুধীজনরা।
এই গণকবরের প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে অমিয় বাবুসহ কয়েকজনকে এখানে হত্যা করেছে। সেই দিনটি আজও আমাদের চোখে ভাসে কিন্তু এখানে গনকবর চিহ্নিত ও সংরক্ষণের নেই কোনো পদক্ষেপ। এগুলি চিহ্নিত না করে সংরক্ষণ না করে কিছু দিনের মধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে যা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। আমার দেশ স্বাধীন করেও গণকবর গুলি সংরক্ষণ করতে পারিনি এটা আমাদের ব্যার্থতা হয়ে যাবে। এবং আমরা উপরে গিয়ে কি জবাব দিব।
শহীদ অমিয় কুমার গুহের দৌহিত্র ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ গুহ বলেন, স্বাধীনতা ও আওয়ামী লীগের স্বার্থে আমার দাদু মৃত্যুর আগপর্যন্ত আপোষ করেন নাই। যার ফলে তাঁর এই করুন মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করলেও আমরা এখন সরকারী তালিকভুক্ত হয়নি এবং গণকবর সংরক্ষন করা হয় নাই। তাই গণকবর সংরক্ষন ও শহীদ পরিবার হিসেবে তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর অনুরোধ রইলো।
খানসামা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, শহীদের কারনেই আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি৷ তাই তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে গণকবর সংরক্ষনের জোর দাবি জানাচ্ছি।