ভুট্টাচাষে আশার আলো দেখছে খানসামার কৃষক
উত্তরের জেলা দিনাজপুর পিছিয়ে নেই কোনো দিক দিয়ে। দিনাজপুর জেলা যেমন লিচু ও কাঠাড়ী ভোগ চাল এর জন্য বিখ্যাত ঠিক তেমনি এখন ভুট্টা চাষেও বিখ্যাত। বলছি খানসামা উপজেলার কথা। স্বল্প পুঁজি, স্বল্প পরিচর্যায় অধিক লাভের জন্য খানসামা উপজেলার কৃষক লেগে পরেছে ভুট্টা চাষে।
শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল এসব কৃষি জমিতে ভুট্টা চাষ এনে দিয়েছে নতুন গতি। কৃষকদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কৃষির এই সফল বিবর্তন। আবার ভু্ট্টা আবাদের সাথে সাথী ফসল চাষেও বাড়তি অর্থ পাচ্ছে চাষীরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভুট্টার চাষে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনে সম্ভাবনা রয়েছে। এই মৌসুমে ৭৩২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে।
১ বিঘা জমিতে চাষ,বীজ, সেচ, সার ও কীটনাশক এবং পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৩৫-৪০ মণ। প্রতি মণের বর্তমান বাজার মূল্য ৬০০-৭০০ টাকা। এতে অল্প পুঁজিতে প্রতি বিঘায় ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,খানসামা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন প্রায় সব জায়গায় কৃষকের বিস্তির্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে এখন ভুট্টার সবুজ ক্ষেতে ভরে গেছে ।
২ নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের কৃষক লক্ষী কান্ত সেন জানায়, গতবার ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি, প্রতি বিঘায় ৩০-৩৫ বস্তা হইছে দাম ও ছিল ভালো। বিক্রি করছি বিঘা প্রতি ৩২-৩৪ হাজার। আর বিঘা প্রতি খরচ হইছে ১২ -১৪ হাজার,ভুট্টা চাষে লোকসান হয় না বরং একই সাথে মেটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। এ বছর ও ৪ বিঘা লাগাইছি বেশ ভালোই হইছে এবার নাকি এখন ১৭০০-১৮০০ বস্তা চলেছে দেখা যাক কি হয় মালিক ভরসা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, ভূট্টা একটি লাভজনক ফসল। তাছাড়াও কম সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা ভূট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে ভূট্টার ক্ষতিকর বালাই “ফল আর্মি ওয়ার্ম” সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে এবং ভূট্টার পোল্ট্রি ফিড ব্যতীত এর বহুমুখী ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে তাহলেই এই ফসলটির স্থায়িত্ব এবং চাষাবাদ আরো অনেকাংশে বেড়ে যাবে।