ফুলপুর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক নারীর টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ
হইহল্লা,দালালদের দৌরাত্ম্য, চুরি-ছিনতাই মতো অপরাধ তো ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিত্যচিত্র। রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে তাই নানা প্রশ্ন। এসব সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথাবার্তায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে অসহায়ত্বের চিত্র। তারাও যে আজ আতঙ্কিত।
আজ ২৮/০২/২২ রোজ- সোমবার ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাহিদা খাতুন, নাগলা থেকে আসেন তার ছেলেকে চিকিৎসা করাতে। ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটার সময় কে বা কাহারা শাহিদা খাতুন এর ব্যানেটি ব্যাগ থেকে দশ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।শাহিদা খাতুন জানান লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটার সময় হঠাৎই লাইনে ভির শুরু হয় এই ভিরের সুযোগে কে জানি আমার টাকাগুলি ব্যাগের চেইন খুলে নিয়ে যায় আমি টের পাইনি। টাকা হারিয়ে শাহিদা খাতুন দিশেহারা, সে গরীব মানুষ কিভাবে তার ছেলেকে চিকিৎসা করাবে।
অপর দিকে তামান্না খাতুন, ভাইটকান্দি গ্রাম থেকে আসেন তার এক মাসের বাচ্চাকে ডাক্তার দেখাতে। বরাবরের মতোই সে টিকেট কেটে ফুলপুর হাসপাতালে ৯/১০ নং ওয়ার্ডের সামনে ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়ায়।সেখানেও হঠাৎই লাইনে ভির।ভিড়ের মাঝে কে বা কারা তার কাঁধে থাকা ব্যানেটি ব্যাগ থেকে OPPO A3S মডেলের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি নিয়ে যায়। তামান্না খাতুন জানান, আমি ফোনটি চুরি যাওয়ার একটু আগেও ব্যাগ চেক করে দেখেছি ফোনটি আছে।হঠাৎ লাইনে ভির শুরু হয় এরপর আমার ব্যাগের দিকে তাকিয়ে দেখি ব্যাগের চেইন খোলা মোবাইল নেই।আমার ফোনে অনেক দরকারি ফটো এবং তথ্য ছিলো। কোন শান্তনাই যেন কান্না থামছেই না যেন তামান্নার।
মফস্বলের সরকারি হাসপাতাল- ক্রমশই হয়ে উঠছে দুষ্কৃতকারীদের মুক্তাঞ্চল। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের বাইরে থাকায় মূলত হাসপাতালকে নিরাপদ জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে অপরাধ চক্রের সদস্যরা। ভয়ে কেউই মুখ খোলেন না। কখনো ধরা পড়লেও অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ঘুরে বেড়ায় চক্রের অপরিচিত সদস্যরা। কখনো এরা নিজেকে হাসপাতালের কর্মী বলে পরিচয় দেয়, কখনো বা বলে তাদের রোগী কোন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ডাঃ প্রাণেশ পন্ডিত জানান ,ঘটনাটি সম্পর্কে ভুক্তভোগীরা আমার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়েছেন। হাসপাতালের ভেতরে চুরির ঘটনা নিয়ে অতীতে অনেক অভিযোগ এসেছে। বেশ কয়েকবার হাসপাতাল চত্বরে হানা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই আমরা মাইকে বার বার বলছি যে, আপনাদের ব্যাগ,মোবাইল, টাকা পয়সা সাবধানে রাখবেন। সব সময় অপরিচিতদের বেরিয়ে যেতে বলা হয়। তবে এই হাসপাতালে হাজার হাজার রোগী আসেন। সঙ্গে তার থেকে বেশিসংখ্যক আসেন পরিবারের সদস্য। তাই সন্দেহ করে প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয় না। সিসি ক্যামেরা বসিয়েও লাভ হয়নি।সেবা নিতে আসা সকলকে আরো সাবধান হতে হবে।