ইয়ুথ অর্গানাইজেশন "বাংলাদেশ স্টার ক্যানভাস" এর নবনির্বাচিত বোর্ড সভাপতি শিপন নাথ। সে বিষয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে এফবিসি বাংলা
দেশের অন্যতম ইয়ুথ অর্গানাইজেশন "বাংলাদেশ স্টার ক্যানভাস" এর নবনির্বাচিত বোর্ড সভাপতি শিপন নাথ। সে বিষয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে এফবিসি বাংলা এর মুখোমুখি হলেন তিনি।
প্রশ্ন :- সাধারণ সদস্য দিয়ে শুরু আর এখন নবনির্বাচিত বোর্ড সভাপতি। কেমন লাগছে?
শিপন :- এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। ২০১৭ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হই এবং নিজের যোগ্যতাই এতটুকু। গত এক মাস ধরেই সভাপতি সম্পাদক নির্বাচন নিয়েই দৌড়ঝাঁপ ছিল। সম্মানিত বোর্ড এডভাইজরদের মাধ্যমেই নমিনেশন পাই এবং বিজয়ী হই। এজন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রশ্ন :- নির্বাচনের বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?
শিপন :- আসলে বোর্ড গঠন করাটা অত্যন্ত জরুরি। ২০১৫ থেকে ইয়ুথদের জন্য বিএসসি অপরিসীম ভূমিকা রেখে চলেছে। পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের মাধ্যমেই বিএসসি জন্মলগ্ন থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ক্ষেত্রে নির্বাচনটাও জরুরি। বোর্ড সভাপতি পদের জন্য বাঘা বাঘা তিনজন ইয়ুথ লিডারদের প্রতিদ্বন্দী ছিলাম আমি। এই বিজয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।
প্রশ্ন:- গত একমাস ধরেই বিএসসি মাঠে নির্বাচন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি?
শিপন :- অভিজ্ঞতা তো বলে ফুরোনো যাবে না। আমরা যারা কার্যকরী কমিটিতে রয়েছি এবং সাধারণ সদস্য রয়েছি মূলত আমরা সবাই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিএসসির সাথে আমার পথচলা শুরু হবার পর থেকেই ইয়ুথদের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিম তৈরি করে করোনা শুরু হবার পর থেকেই চট্টগ্রামে কাজ করে যাচ্ছি। চেয়ারের জন্য তো আসলে নির্বাচন করিনি। সম্মানিত এডভাইজর কর্তৃক নমিনেশন পেয়েই নির্বাচন করেছি এবং বাঘা বাঘা লিডারদের টপকে বিজয়ী হয়েছি।
প্রশ্ন :- এই নির্বাচনে আপনিই বোর্ড সভাপতি হবেন সেটা কি আগে থেকেই জানতেন?
শিপন :- জানতাম বলতে নিশ্চিতই ছিলাম। কারণ, বিএসসি নিয়ে আমার স্বপ্ন অনেক। সেসব পূরণ করতে হবে যে! তাই আমার কনফিডেন্স লেভেলও ছিল হাই৷ হ্যাঁ বেশ কিছু অনিয়মের খবর আমার কানে এসেছে বহুবার। তবে তা আমি তেমন একটা গুরুত্ব দেইনি। মূলত চেয়ারের জন্য নয়। সমাজের ইয়ুথদের মধ্যে আমি একটা পরিবর্তন চেয়েছি। এবার যখন সুযোগ পেয়েছি পরিবর্তন ঘটাবই।
প্রশ্ন :- একদিকে আপনি একজন স্বনামধন্য লেখক, অন্যদিকে একজন দক্ষ সংগঠক আবার এখন দেশের অন্যতম ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের বোর্ড সভাপতি। কিভাবে সামলান এতসব?
শিপন :- আমি যখন অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অর্থাৎ ২০১৫ সাল থেকেই আমার অফিশিয়ালি সাংগঠনিক জীবন শুরু হয়। সবার আগে আমার প্রধান কাজ অর্থাৎ, পড়াশোনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ, ছাত্রজীবনের প্রধান কাজ তো এটাই। বাদ বাকি লেখালেখি, বই পড়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম সময়ের সাথেই তাল মিলিয়ে নিই।
প্রশ্ন :- দেশের একটি লিডিং সংগঠনের বোর্ড সভাপতি আপনি। মাথায় অনেক দায়িত্ব। শপথ বাক্য পাঠের পর আপনার প্রথম কাজ কী হবে?
শিপন :- পরিকল্পনা তো অনেক আছেই। সেসব এখন সাসপেন্স থাক। তবে এটা জানিয়ে রাখি, বিএসসির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট আমার এক্সিকিউটিভ বোর্ডই পরিচালনা করবে এবং এটা অতি শীঘ্রই। আমি নিজেই এখনও ইয়ুথ। তাই ইয়ুথদের জন্য কাজ করতে পারাটাও নিজের জন্য অনেক বড় কিছুই বটে। এছাড়াও প্রায় ২০, ০০০ ফলোয়ার্সের অফিশিয়াল পেইজ গ্রুপগুলো নানান জটিলতার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটা নিয়েও কিছু ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। এই বয়স মাথা নোয়াবার নয়। এই বয়স বড়ই দুর্বার।
প্রশ্ন:- আপনি যাদের প্রতিদ্বন্দী ছিলেন তাদের সাথে কাজ করতে একাত্মতা পোষণ করবেন?
শিপন :- অবশ্যই। তারাই তো আমার অনুপ্রেরণা। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অনুযায়ী পরামর্শ নিয়েই কাজ করব।
প্রশ্ন :- নতুন বোর্ড নিয়ে আপনার আশা কিরুপ?
শিপন :- আমি মনে করি, ২০২২-২৪ বোর্ডের সকল বোর্ড সদস্যগণ নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচিত হয়েই আসন পেয়েছেন। সেই অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েই তারা আমাকে প্রজেক্টের কাজে সহযোগিতা করবেন। বোর্ডের মিলিত শক্তিই পারবে প্রাণের বিএসসিকে এগিয়ে নিতে।
প্রশ্ন :- আপনাকে আবারও অভিনন্দন এবং শুভ কামনা।
শিপন :- ধন্যবাদ।