মাদকাসক্তিতে ধংসের মুখে যুবসমাজ এতে অবহেলিত ও লাঞ্চিত হচ্ছে পিতা- মাতা
আমাদের দেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে মাদকাসক্তি এটি যুবসমাজ অবক্ষয়ের মূল কারণ। মাদকের কারনেই অনেক মধ্যেবিত্ত পরিবার আজ ধংসের কবলে। একটি যুবক বা যুবতি যখন ১৮ বছরে পদর্পন করে তখন যেমন ভালো দিক আছে তেমনি মন্দ দিক ও আছে, তার ভিতর মাদকাসক্তি অন্যতম। তরুণ সমাজকে ভালো কাজে নিয়োজিত করতে পারলে যেমন ভালো ফল পাওয়া যায় , ঠিক তেমনি মন্দ কাজেও এদের জুড়ি মেলা ভার।
কিন্তু এই তরুণ সমাজ আজ অনেকটাই বিপথগামী হয়ে উঠেছে। অনেকেই নানার রকম হতাশায় ভুগে এই মাদকাসক্তি গ্রহণ করেছেন আর এই মাদকাসক্তিই হচ্ছে তাদের একমাত্র মুক্তির পথ।
সাংসারিক অভাব অনটন, বেকারত্ব, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে না- পারা, বাবা মায়ের বিচ্ছেদ এগুলো থেকেই আসে হতাশা।
তাই মাদকাসক্তরা সাংসারিক সব ঝামেলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে মাদক সেবন করে।
কিন্তু এই মাদক সেবনের ভুল ধারণা নিয়েই তারা জীবনে সব থেকে বড় ভূলটা করে তাই তারা জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতকে জয় করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে একসময় তারা আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়।
প্রতিবছর ২৬ জুন বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস হিসেবে পালিত হয়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ সংগঠন, মাদকবিরোধী বিভিন্ন সভার আয়োজন করে মাদক সেবনের অপকারিতা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকেন।
শুধু আলোচনা সভার মাধ্যমে এত বিস্তৃত ব্যাপারটির সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারি স্তরে যদি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, মাদকবিরোধী আইন যদি প্রণয়ন করে প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে এসব সভা-মিছিলের কোনো গুরুত্ব থাকবে না। যদি সরকার এই মাদকদ্রব্রের বিরুদ্ধে নিরব ভূমিকা পালন কারে, এবং মাদক ব্যাবসায়ী ঢালাও ভাবে লাইসেন্স দিয়ে থাকে তাহলে আমাদের দেশ কখনোই মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে পারবো না। এবং মাদকবিরোধী অভিযান সার্থকতা লাভ করতে পারবে না। এজন্য আমাদের দেশে প্রতিটি উপজেলার কত টি ইউনিয়ন প্রত্যেক ইউনিয়নের কত টি ওয়ার্ড প্রত্যেক ওয়ার্ডে কত জন মাদক সেবন করেন কতজন ব্যাবসা করেন তাদের লিস্ট তৈরী করতে হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তাহলেই মাদকবিরোধী অভিযান সার্থকতা লাভ করতে পারবে। মাদকাসক্তি সামাজিক সমস্যা তথা রাষ্ট্রীয় সমস্যা।