"যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার" নিয়ে নীলফামারীর শিশু-চিন্তা ও দ্বায়িত্ব বাহকদের দায়িত্বশীলতা
যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার একটি মানবাধিকার। প্রত্যেকেরই যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা পাওয়া সকলের অধিকার ।
বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ১ বছর। ২০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার নবজাতকের জন্মদানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়। তাই আমাদের শিশু ও যুবদের যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি ।
এছাড়া কিশোরীরা নিজ পরিজন দ্বারা এমনকি বিবাহিত নারীরা স্বামীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। যৌন ও প্রজনন–স্বাস্থ্য অধিকারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
এগুলো হলো বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, পুষ্টি ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না থাকা ইত্যাদি।
আর সেই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে কাজ করে যাচ্ছে নীলফামারী জেলা। দক্ষ প্রশাসন ও একদল শিশু ও তরুণদের প্রচেষ্টায় যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলছে। এই জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রয়েছেন কৈশর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কর্নার। সেখান থেকে সহজেই একজন কিশোর কিশোরী নিজের সব ধরনের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা কথা বলতে পারে, নিতে পারছে তাদের কাঙ্খিত সেবা। এমনকি মাসকি চলাকালীন সময়ে ফ্রি ন্যাপকিন ও প্রয়জনীয় ওষুধ। নীলফামারী জেলার সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে দেওয়া হয়েছে কিশোর কিশোরী ইউনিট। আর এই সব ইউনিট ও কর্নার গুলোতে কর্মরত রয়েছেন সুদক্ষ কৈশর বান্ধব জনবল। তারা নিরাপদ সন্তান প্রসব, মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি কমানোর জন্য বদ্ধপরিকর।
এই সব ধরনের সেবা সহ "যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা" শিশু ও জনসাধারণের মধ্যে জানাতে ও সচেতন করতে প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় "ইয়েস বাংলাদেশ নীলফামারী জেলা কমিটি ও জেলা এনসিটিএফ কমিটি কাজ করে আসছে। জেলা এনসিটিএফ কমিটি প্রতি মাসে একটি করে মাসিক সভার আয়োজন করে, সেখানে তারা বিভিন্ন শিশু চিন্তা ও কিশোর-কিশোরী প্রজন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করে, জেলার আর সকল শিশুদের জন্য চিন্তা ভাবনা করে তারা। তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে ও মোকাবেলা করতে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও তাদের চিন্তা গুলো দ্বায়িত্ব বাহকদের কাছে তুলে ধরে।
তারা জানিয়ে দিচ্ছে জেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা ও হাসপাতালে অবস্থিত কৈশর সেবা সমূহের কথা। এবিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা সফলতার সঙ্গে কমিউনিটি স্কোর কার্ড প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ করে, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কিশোর কিশোরী কর্নার স্থাপন করেন ও নিজেদের এলাকার শিশু সহ সকলকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে সেবা গ্রহণ করতে। আর বর্তমানে কিশোর কিশোরি কর্নার গুলো বেশ কার্যকর হয়ে উঠেছে, যদিও সেখানে কিশোরদের তুলনায় কিশোরীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
নীলফামারী জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ডাক্তার রোকসানা বেগম (এম.বি.বি.এস) বলেন, "আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কিশোর-কিশোরীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত শিশু-কিশোর বান্ধব, তারা এখানে প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সব ধরনের সেবা পায়, আমরা তাদের বিনামূল্যে ঔষধ ,পরামর্শ ও ন্যাপকিন দিয়ে থাকি। কিশোরীদের উপস্থিতি ভালো কিন্তু কিশোরদের উপস্থিতি নেই বললে চলে, আমরা তাদের সেবা দিতেও প্রস্তুত। কিশোরীদের পাশাপাশি কিশোরদেরও স্বাথ্য কেন্দ্র মুখী করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোর-কিশোরী, এনসিটিএফ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই জানে না বয়সন্ধিকালে যে সমস্যা গুলো হয় তার সেবা ও পরামর্শ কমিউনিটি ক্লিনিক , সদর হাসপাতালে ও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বিমূল্যে পাওয়া যায়। এখানে প্রচারণার অভাবে অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারছে না। সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার প্রচার বেশি বেশি করতে হবে।