প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
রাতের আঁধারে আগুনের তাণ্ডব, নিতাইগঞ্জে পুড়ল ১৬ দোকান
মো রিপন ইসলাম ||
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নিতাইগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানগুলোর বিভিন্ন পণ্য, মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হঠাৎ নিতাইগঞ্জ বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী দোকানের ভেতর থেকে মালামাল বের করে নেওয়ার সুযোগ পাননি। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, রাতের বেলায় আগুন লাগায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার তেমন সুযোগ পাওয়া যায়নি। এতে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি ও প্রয়োজনীয় মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। হঠাৎ এমন ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ইউএনও ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাঅগ্নিকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত নিতাইগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে দেখেন।পরিদর্শনকালে ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। তাই বাজারের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, মিটার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে সচেতন থাকতে হবে। আগুন লাগার পর দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রিয়াজুল ইসলাম বাবুল বলেন, নিতাইগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাজারের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নিতাইগঞ্জ বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগুনে দোকান ও পণ্য হারিয়ে অনেকেই নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং এর পেছনে কোনো অবহেলা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত