প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫
চাকরির সংকটে দেশ: পোশাক ও রেমিট্যান্স খাতে স্থবিরতা, বাড়ছে বেকারত্ব
আত্রাই বার্তা ডেস্ক ||
দেশে দিন দিন বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা, অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য হারিয়ে তৈরি হচ্ছে সংকট। উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ। দেশের কর্মসংস্থানের প্রধান দুটি খাত— তৈরি পোশাক শিল্প ও রেমিট্যান্স— উভয়ই এখন চলমান সংকটে ভুগছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।উদ্যোক্তাদের মতে, অনিশ্চয়তা দূর করে উৎপাদন ব্যবস্থায় গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতে উৎপাদন কমেছে, বন্ধ হয়েছে শতাধিক কারখানা, এবং লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়েছেন। যদিও নতুন কিছু কারখানা চালু হয়েছে, তবুও চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হয়নি।বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, “১০০টি কারখানা বন্ধের বিপরীতে মাত্র ৩০টি নতুনভাবে চালু হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের পুনরায় কর্মসংস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক পরিবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে।” সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দুই প্রবৃদ্ধি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে— তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স খাত। এই দুই খাতের বড় উপাদান সস্তা শ্রম। এখন সময় এসেছে নতুন প্রবৃদ্ধির খাত খুঁজে বের করার।তিনি আরও বলেন, “দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও, সেই দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর করার সুযোগ কম। ফলে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।” বর্তমানে সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা, নতুন বিনিয়োগে অনীহা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে ধীরগতি— সব মিলিয়ে বেকারত্ব বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন ও বিনিয়োগে গতি না ফেরালে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে।
সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত