প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
ঈদের আনন্দের ভিড়ে এক পরিবারের নীরব কান্না: রাতের আঁধারে চুরি গেল জীবিকার একমাত্র ভ্যান
মো রিপন ইসলাম ||
চারদিকে যখন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে, ঘরে ঘরে নতুন পোশাক, হাসি আর খুশির উচ্ছ্বাস—ঠিক তখনই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেরভেরী ইউনিয়নের নিতাই গঞ্জ বাজার এলাকায় নেমে আসে এক পরিবারের ওপর গভীর বিষাদের ছায়া।গত ১৮ মার্চ, বুধবার গভীর রাতে চুরি হয়ে যায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান—যেটিই ছিল শাকিল রানার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম।উপজেলার ২ নং ভেরভেরী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের নিতাই গঞ্জ বাজারের সামনে নিজ বাসার পাশেই ভ্যানটি রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন শাকিল। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই তিনি দেখেন, যেখানে ছিল তার স্বপ্ন আর সংসারের ভরসা, সেখানে পড়ে আছে শুধু শূন্যতা।পিতা জবেদ আলীর সন্তান শাকিল রানা পেশায় একজন ভ্যানচালক। কিস্তিতে ঋণ নিয়ে, দিনের পর দিন কষ্ট করে তিনি কিনেছিলেন মোটা চাকার এই ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি। সেই ভ্যানের চাকায় ঘুরত তার সংসারের চাকা, চলত স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ।ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা শাকিল রানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—“এই ভ্যানটাই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার ভরসা। এক রাতেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল। ঈদের দিনে যখন সবার ঘরে আনন্দ, আমাদের ঘরে তখন শুধু কান্না আর নিঃশব্দ শূন্যতা।”তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন—“যদি প্রশাসন বা কোনো সহৃদয় মানুষ একটু সহযোগিতা করতেন, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে শুরু করার সাহস পেতাম।”ঘটনার পরপরই তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিতাই গঞ্জ বাজার এলাকায় এর আগেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাত বাড়লেই চোরের আনাগোনা বেড়ে যায়, কিন্তু কার্যকর কোনো নজরদারি বা প্রতিরোধ চোখে পড়ে না। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে দিন দিন বাড়ছে আতঙ্ক আর অনিরাপত্তা।ঈদের উচ্ছ্বাসের মাঝেও তাই নিতাই গঞ্জ বাজারে আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, একটি ভ্যান, আর একরাশ নীরব কান্না।
সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত