প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদে ভারি খাবার খেয়ে সুস্থ থাকবেন যেভাবে
আত্রাই বার্তা ডেস্ক ||
ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই খাবারের তালিকায় থাকে নানারকম ভারি ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার। এসব খাবার বেশি খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে পেট ফাঁপা, বদহজম, পেটে ব্যথা, এমনকি বমির মতো সমস্যাও দেখা দেয়, যা সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে।হজম একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। খাবার গ্রহণের পর পাকস্থলী ও অন্ত্রে বেশি পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয়। একই সঙ্গে অ্যাসিড, এনজাইম এবং পুষ্টি ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান নিঃসৃত হয়। কিন্তু বয়স, পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণে এনজাইম উৎপাদন কমে গেলে খাবার দীর্ঘ সময় পেটে অবস্থান করে। তখনই পেট ভারি লাগা শুরু হয়।বিশেষ করে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। তাই প্রতিটি খাবারের মাঝে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিরতি রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত ভারী খাবার শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।এবার জেনে নেওয়া যাক, ভারি খাবার খাওয়ার পর কী করবেন—হালকা গরম পানি পান করুন—খাওয়ার ৩০–৪০ মিনিট পর হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে খেলে বিপাকক্রিয়া বাড়ে এবং শরীরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করে। তবে খাওয়ার সময় পানি পান না করাই ভালো। খাওয়ার পর চা বা কফিও এড়িয়ে চলুন; কারণ এতে থাকা ফেনোলিক যৌগ ও ক্যাফেইন পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়।টকদই—ভারি খাবারের ১৫–২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিক খাবার হিসেবে টকদই খেতে পারেন। এটি হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। দইয়ের সঙ্গে ভাজা জিরা মিশিয়ে খেলে উপকার আরও বেশি পাওয়া যায়।বোরহানি—খাবারের শেষে বোরহানি, লাচ্ছি বা মাঠা পান করলে হজমে উপকার পাওয়া যায়।আদা ও জিরা ভেজানো পানি—আদায় থাকা জিঞ্জেরল দ্রুত খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং বমি ভাব কমায়। অন্যদিকে জিরা পেটের গ্যাস কমাতে কার্যকর। তবে জিরা পানি তৈরিতে প্যাকেটজাত জিরা ব্যবহার না করাই ভালো।মৌরি বীজ—মৌরি হজমতন্ত্রের পেশিকে শিথিল করে, ফলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অস্বস্তি কমে। ভারি খাবারের পর এক চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেতে পারেন।আপেল সাইডার ভিনেগার—এটি হজমে সহায়ক একটি উপাদান। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে, যা খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। ভারী খাবারের আগে বা পরে এটি পান করা যেতে পারে।ফল—হজমশক্তি বাড়াতে এনজাইমসমৃদ্ধ ফল যেমন পেঁপে বা আনারস খেতে পারেন। পেঁপের পাপাইন ও আনারসের ব্রোমেলেন প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে। তবে যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা (যেমন আইবিএস) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব ফল সবসময় উপযোগী নাও হতে পারে। তারা বিকাল বা সন্ধ্যায় এসব ফল খেতে পারেন।ডিটক্স পানীয়—ভারি খাবারের পর পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা বা তেঁতুল মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি শরীরকে ডিটক্স করতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।হাঁটাহাঁটি—খাবারের পরপরই ভারি শরীরচর্চা না করে হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর ১৫–২০ মিনিট হাঁটলে হজমশক্তি বাড়ে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সম্পাদক : মোঃ মোজাফফর হোসেন, বার্তা সম্পাদক শেখ নেছারুল ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৬ আত্রাই বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত